ধনী হতে চাইলে ৫ টি অভ্যাস বাদ দিন !

আপনি রোজগার খারাপ করেন না। প্রতি মাসে সংসারের সব খরচ বাদ দিয়েও আপনার হাতে টাকার একটি মোটা অঙ্ক থাকার কথা। তবে সবমিলিয়ে কিছুতেই যেন মাস শেষে পকেটে টাকা থাকছে না। কোনোভাবেই টাকা জমিয়ে বিত্তবান হতে পারছেন না। দিনের পর দিন কষ্ট করে উপার্জন করেও দিন আনি দিন খাই ভাব আপনার মধ্যে।

এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে এই দশা কাটিয়ে ছন্দে ফিরবে আপনার পকেট ও ব্যাঙ্ক ব্যালান্স? এজন্য নিজেকে নিয়ে ভাবুন। আর খেয়াল করুন, ২০টি অভ্যাস আপনার মধ্যে আছে কি না, যেগুলো আপনার বিত্তবান হওয়ার পিছনে বড় বাধা হয়ে আছে। চলুন দেখে নেই সেই ২০টি অভ্যাস যেগুলো আপনাকে ধনী হতে দিচ্ছে না।

১. মোবাইলে কেউ ফোন করলে কথা না বলা
আমরা ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের যুগে বসবাস করছি। প্রায় সব ধরনের কাজেই আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি। কিন্তু কিছু মানুষ মোবাইল ফোনে কথা বলতে চায় না। তাদের অফিসের কলিগ কিংবা ব্যবসায়িক পার্টনার ফোন করলে তারা ফোন রিসিভ না করে কেটে দিয়ে খুদেবার্তা কিংবা ই-মেইল পাঠায়। কিন্তু ওই সব মানুষ ভেবেও দেখে না তাদের এই অভ্যাসের কারণে তারা জীবনে ধনী হতে পারছেন না। কারণ এমন অভ্যাস আপনার মধ্যে থাকলে আপনাকে পাশের মানুষগুলো অহংকারী ভাববে আর আপনার কাছ থেকে তারা দূরে সরে যেতে থাকবে। এ কারণে আপনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই ধনী হতে হলে আপনাকে এই অভ্যাসটি ছাড়তে হবে।

২. পারিপার্শ্বিক অবস্থা চিন্তা না করেই অন্যের কথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া
কোনো কাজে হাত দেওয়ার আগে অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নেওয়া ভালো। ধনী হওয়ার জন্য আমরা অনেক সময়ই আশপাশের মানুষের পরামর্শ নিয়ে থাকি। আমাদের সমাজে একটা বিষয় প্রচলিত আছে, বয়সে বড় মানেই তাঁর কথামতো চলতে হবে। আপনি অবশ্যই বড়দের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করবেন না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বয়সে বড় হলেই একজন সব বিষয়ে ভালো জানবেন। আপনি ধনী হতে চাইলে এমন মানুষের কথা মেনে চলুন, যারা নিজেরা ধনী হয়েছেন, অথবা ধনী হওয়ার পথে আছেন। পরামর্শ শুধু তাদের কাছ থেকেই নিন যারা সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ। আমাদের আশপাশে এমন অনেক লোকই আছে যারা জীবনে বড় হওয়ার উপদেশ দেয়, কিন্তু নিজেরা আসলে জীবনে কিছুই করতে পারেনি। যখন কারো কাছ থেকে উপদেশ নেবেন, তখন তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা চিন্তা করে পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. ঘণ্টার হিসাবে টাকা আয় করার চেষ্টা
মানুষ পরিশ্রম কেন করে? অবশ্যই অর্থ উপার্জনের জন্য। সবার মতো আপনিও কাজ টাকার জন্যই করেন। কিন্তু কতটা সময় কাজ করার বিনিময়ে আপনি ধনী হতে পারবেন সেটা নির্ধারণ করা কঠিন। পৃথিবীতে তিন শ্রেণির কর্মজীবী মানুষ আছে। একদম নিচে আছে শ্রমিক শ্রেণির মানুষ। তাঁরা যতটুকু কাজ করেন, সেই কাজের বিনিময়ে টাকা পান। কাজ নেই, টাকাও নেই। এর ওপরে আছে দক্ষ কর্মী ও চাকরিজীবিরা। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হওয়া ও কাজ করার জন্য তাঁদেরকে একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা হয় মাসিক বেতন।

এছাড়া কাজের ওপরে কিছু বোনাসও থাকে। সবচেয়ে ওপরের ভাগে আছে সেইসব মানুষ, যারা বাকি দুই শ্রেণিকে টাকা দিয়ে থাকে। এরা অন্যের জন্য কাজ না করে নিজের জন্য কাজ করে। যখন অন্যকে সার্ভিস দেয়, তখনো তারা নিজের জন্যই কাজ করে। তারা মোট যে টাকা আয় করে, সেই আয় থেকেই অন্যদের টাকা দেয়। এ ধরনের মানুষ তাদের আইডিয়া ও দক্ষতা দিয়ে অন্যদের পরিচালনা করে। এই শ্রেণির মানুষ কাজ করার সময় সময়ের তোয়াক্কা করে না। সুতরাং আপনি ঘণ্টার হিসাব করে কাজ করলে অন্যের কর্মচারী হতে পারবেন ঠিকই, কখনো ধনী হতে পারবেন না।

৪. কাজ না করে অলৌকিক কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করা
আপনি যদি মনে করেন কাজ না করলেও ভাগ্যে থাকলে আপনি এমনিতেই একদিন ধনী হয়ে যাবেন, তবে এই ধারণা থেকে আপনাকে বেড়িয়ে আসতে হবে। এই মানসিকতা থাকলে আপনি জীবনে আর যাই হোন না কেন ধনী হতে পারবেন না। এটা আসলে পরিশ্রম না করার একটা অজুহাত। অনেকে বলেন, ধনী হতে হলে ধনী হয়ে জন্মাতে হয় অথবা কারো সাহায্য পেতে হয়।

কিন্তু সত্যি কথা হলো, আপনি যতক্ষণ না নিজে কিছু করে দেখাতে পারছেন, ততক্ষণ আপনাকে কেউ সাহায্য করবে না। উদাহরণ হিসেবে আপনি আলিবাবা প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার জীবনীর দিকে তাকান। তিনি একদমই হতদরিদ্র থেকে বিশ্বের সেরা একজন ধনী হয়েছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধু পরিশ্রমের বদৌলতে। আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থা যা-ই হোক না কেন, সঠিক ভাবে পরিকল্পনা ও পরিশ্রম করলে আপনার অবস্থা ঘুরে যাবেই।

৫. কাজের চেয়ে কথা বেশি বলা
কিছু মানুষ আছে যারা বড় বড় স্বপ্ন দেখে, কিন্তু তা পূরণের জন্য যা করা দরকার তা একেবারেই করে না। তারা শুধু স্বপ্ন পূরণের পরিকল্পনা ও কথায় আটকে থাকে। তাই তারা তাদের অবস্থান কখনোই বদলাতে পারে না। অন্যদিকে যারা বেশি কথা না বলে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনামতো কাজ শুরু করে তারাই একদিন সফল হতে পারে। যারা নিজেদের কাজ বাদ দিয়ে শুধু বড় বড় কথায় ব্যস্ত থাকে তাদের স্বপ্নের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে কেবল আপনাকে তাদের পরিকল্পনার কথা শোনাবে। কিন্তু যারা কর্মঠ তারা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্বপ্ন পূরণে অনেকটাই সফল হয়ে যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published.