ঢাকার কাছেই গোলাপের রাজ্যে একদিন

গোলাপ গ্রাম : গ্রামীণ পরিবেশ, প্রকৃতির শীতল আবহ, সরু রাস্তা, কিছুক্ষণ পর আঁকাবাঁকা মেঠো পথ, পথের দু’ধারে বিস্তীর্ণ ফুলের বাগান। বাগানের মাঝে সুগন্ধের মাঝে কয়েক কদম এগোলেই অন্তরের গহীনে এক অন্যরকম প্রশান্তি, মনে হবে, ফুলের বাগান নয়, ফুলের রাজ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন!

ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর গ্রামের গোলাপ বাগানের কথা। বিশাল গোলাপের বাগান, ফুলের সৌরভ ও সৌন্দর্য পুরো গ্রামজুড়েই। আর এতেই সাদুল্লাহপুর গ্রাম থেকে হয়ে উঠেছে গোলাপ গ্রাম। স্থানীয়দের কাছে সাদুল্লাহপুর ও গোলাপ এই দুটি নাম পরিচিত হলেও দর্শনার্থীদের কাছে গোলাপ গ্রাম নামটিই অধিক পরিচিত।

সাদুল্লাহপুর গ্রাম ছাড়াও নিকটস্থ শ্যামপুর, বাগ্নিবাড়ি ও কমলাপুর গ্রামগুলোর বসতবাড়ির আঙিনা, দোকানপাট, এমনকি বিদ্যালয়গুলোর আঙিনাতেও মিরিন্ডাসহ বিরল প্রজাতির গোলাপ ফুল চাষ করা হয়। এছাড়াও কিছু কিছু জায়গায় গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ করতে দেখা যায়। বছরের পুরোটা সময় জুড়ে বাগানগুলোতে গোলাপ দেখা গেলেও অন্যান্য জাতের ফুলগুলো নির্দিষ্ট সময় ছাড়া দেখা যায় না।

গোলাপচাষীরা সকাল এই সময়টা ফুল দেখাশোনার কাজে ব্যস্ত থাকেন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ফুল উত্তোলন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং বিক্রির জন্য ফুলগুলোকে একই অবস্থানে নিয়ে আসেন। পশ্চিমাকাশে সূর্য ডোবার পর থেকে বিক্রির জন্য ফুলগুলো নিয়ে যাওয়া হয় আশেপাশের বাজারগুলোতে। গোধূলির পর থেকে বাজারগুলো হয়ে ওঠে সরগরম।

শীতকালে ছুটির দিনগুলোতে গোলাপ গ্রামে ঢের দর্শনার্থী লক্ষ্য করা যায়। এখানে আসা কিছু দর্শনার্থীকে নৌভ্রমণও করতে দেখা যায়। এছাড়াও সিংহভাগ স্থানীয় বাসিন্দা বিরুলিয়া থেকে সাদুল্লাহপুর গ্রামে যাতায়াতের জন্য নৌকাভ্রমণ করে থাকেন। গোলাপ গ্রাম ভ্রমণের পাশাপাশি হাতে কিছুটা সময় নিয়ে বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি ও লেক আয়ারল্যান্ড খ্যাত ছোট চিড়িয়াখানাতেও ঘুরে আসতে পারেন।

গোলাপ গ্রামে যাবার উপায়: সড়কপথে, প্রথমত, ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে সর্বপ্রথম উত্তরা হাউজবিল্ডিং আসতে হবে। সেখান থেকে সোনারগাঁও সড়কে থাকা লেগুনা কিংবা রিকশায় করে দিয়াবাড়ি খালপাড় আসতে হবে। ভাড়া পড়বে লেগুনায় জনপ্রতি ১০-১৫ টাকা, এবং রিকশায় ৩০-৪০ টাকা। খালপাড় থেকে ২০-২৫ টাকার বিনিময়ে ব্যাটারিচালিত অটোবাইকে করে পঞ্চবটি নামক জায়গায় আসতে হবে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বা রিকশা করে কিছুদূর এগোলেই বিরুলিয়া সেতু পড়বে, তবে চাইলে খালপাড় থেকে পঞ্চবটি না নেমে সরাসরি বিরুলিয়া সেতু ধরতে পারেন। সেতু থেকে রিকশা বা অটোতে চেপে বসে চলে যান আক্রাইন বাজার। বাজার থেকে বামে যাওয়া পথ ধরে রিকশা, অটো বা পায়ে হেঁটে কিছুদূর এগোলেই দেখা মিলবে সৌরভ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত গোলাপ গ্রামের।

দ্বিতীয়ত, আশুলিয়া বেড়িবাঁধ অথবা মিরপুর ১ নম্বর থেকে মোহনা বা আলিফ পরিবহনে করে বিরুলিয়া সেতুতে নামতে হবে। পরিবহনে ভাড়া গুনতে হবে আশুলিয়া বেড়িবাঁধ থেকে ১০-১৫ টাকা, এবং মিরপুর ১ নম্বর থেকে ১৫-২০ টাকা। অতঃপর বিরুলিয়া সেতু থেকে একইভাবে অটো বা রিকশায় চড়ে আক্রাইন বাজার, বাজার থেকে বামে যাওয়া পথ ধরে রিকশা বা পায়ে হেঁটে কিছুদূর এগোলেই পৌঁছে যাবেন গোলাপ গ্রামে।

খাবেন কোথায়: গোলাপ বাগানের আশেপাশে ভারী খাবারের দোকান নেই বললেই চলে, তবে হালকা বা শুকনো খাবার, চা, পানি বা নাস্তার জন্য কয়েকটি দোকান রয়েছে। বাগান থেকে বাজারের দিকে এগোলে কিছু হোটেলের দেখা পাবেন। চাইলে সেখানে খাবার সেরে নিতে পারেন। এছাড়াও সাদুল্লাহপুর ঘাটের আশেপাশে মিষ্টান্নের দোকান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.