স্ত্রী’র পাশে শু’তে পারি না, অন্য ঘরে ঘু’মাই

প্রশ্ন: আ’মি একজন বিবা’হিত পুরুষ। বহুদিন অবিবা’হিত ছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর শুরু হয়েছে অন্য সমস্যা। এখন স্ত্রী আমায় ঘৃ’ণা করে। আর এই অপছন্দ এতটাই যে আমি ওর সঙ্গে শু’তে পর্যন্ত পারি না। ও মনে করে যে আমি ওর জীবন শেষ করে দিয়েছি। আসলে ওর অভিযোগ হল, আমি ওকে লাক্সারি জীবন দিতে পারিনি। তাই সারাদিন আমার উপর চিৎকার করতে থাকে ও।

এমনকী কথায় কথায় খোটা দেয়। এই অবস্থায় আমার মনের অবস্থা খুবই খারাপ। আমায় অন্য একটি ঘরে শু’তে যেতে হয়। আসলে আমি ওকে মিথ্যে কথা বলে অন্য ঘরে যাই। আমি বলি যে রাতে আমার কাজ রয়েছে। এই গোটা বিষয়টি আমার মাথায় ঘোরে।

পারি না যে ও কেন এতটা আমায় ঘৃণা করে। যদিও এই সমস্যাকে নিজের ভুল বলতে পারি না। কারণ আমার যতটা সামর্থ করি। তবে এরপরও অনেক সমস্যাই দেখা দিচ্ছে। আমার মনে হয় যে শুধু ওর জীবনই খারাপ করছি না, এর পাশাপাশি আমার জীবনও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আমি বুঝতে পারছি না যে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে কী ভাবে? কী ভাবেই বা আমি গোটা বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে পারব? এবার কোনও বিশেষজ্ঞ যদি এই বিষয়টি সম্পর্কে আমায় জানান।

​বিশেষজ্ঞের উত্তর: গেটওয়ে হিলিং-এর প্রতিষ্ঠাতা সাইকোলজিস্ট কোচ চাঁদনি তুঘনায়েত বলেন, আমি বুঝতে পারছি যে এই বিষয়টা কতটা আঘাত দিয়েছে আপনাকে। তবে আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে এমন কোনও সম্পর্কে এভাবে এগিয়ে যাওয়া কোনও মতেই ঠিক হবে না। কারণ আপনি ও আপনার স্ত্রী প্রতিদিন একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন, এভাবে খুব বেশিদিন টানা যাবে না।

আসলে মানুষের খুবই খারাপ লাগে যখন তিনি জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী তাঁকে একদমই পছন্দ করেন না। আপনিও এই কারণেই খুবই দুঃখিত। আমার এটা ভেবেও খারাপ লাগছে যে আপনার স্ত্রী আমোদপ্রমোদ মূলক জীবনযাপন করতে পারছেন না বলে আপনার উপর রেগে রয়েছেন।

​নিজেদের মধ্যে কথা বলুন: আপনি বলেছেন যে নিজের স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে আপনি পারছেন না। তাই আপনাদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি বলব যে এই ধরনের বিয়ের আর কী দরকার যেখানে এমন সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। তবে এখানে বলে রাখি, আলাদা কোনও ঘরে শুয়ে পড়া কিন্তু কোনও কাজের কথা নয়। বরং নিজেদের মধ্যে বিষয়টিকে নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে হবে। তবেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে নিজের স্ত্রীর কথা শুনুন। আবার নিজের কথাও বলুন। তবেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। এমনকী তাঁকে বোঝান যে এই সম্পর্কে থাকা কতটা জরুরি আপনার কাছে।

​সঠিক তথ্য দিন: আপনার স্ত্রীকে এই সময়টায় নিজের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন। নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তো অবশ্যই সঠিক কথা বলতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি বলেছেন যে আপনার স্ত্রী একটা লক্সারি লাইফ চান। এবার এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আপনি নিজের স্ত্রীকে নিজের ইনকামের কথা সরাসরি বলে দিতে পারেন। এমনকী নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কেও ঠিক তথ্য দিন। তবেই সমস্যা থেকে দূর হয়ে যেতে পারবেন।

​বাজেটে থাকতে হবে: এক্ষেত্রে লাক্সারি লাইফ বাঁচা যায় বাজেটেও। তাঁর সামনে ইনকামের সঠিক চিত্র থাকলে তিনি হয়তো গোটা বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করে নিতে পারবেন। তখন আপনাদের সম্পর্কও এগিয়ে যেতে পারে। একে অপরের সঙ্গে সৎ থাকুন। তবেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। নইলে সমস্যা দেখা যেতেই পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.