আল্লাহর অপার মহিমা, প্রত্যেক ওয়াক্তে আযানের সাথে সাথে ফোটে এই অদ্ভুত ফুল!

মুয়াজ্জিনের সুরেলা কন্ঠে যখন আযানের প্রতিটি বাণী উচ্চারিত হয় তখন এর সাথে ছন্দ মিলিয়ে ফোটে বিরল প্রজাতির এক ফুল। আযানের ধ্বনি যেন ফুলগুলোকে ইবাদতের জন্য জাগ্রত করে। প্রতিটি সমুধুর ধ্বনিতে পাপড়িগুলোও ক্রমান্বয়ে প্রস্ফুটিত হয়।

ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং এশা প্রত্যেক ওয়াক্তে আযানের সাথে সাথে ফোটে এই অদ্ভুত ফুল। আর সেকারণেই ফুলটির নাম দেয়া হয় আযান ফুল। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই বিরল প্রজাতির ফুল ছড়িয়ে রয়েছে ।

সম্প্রতি আজারবাইজানের এক মুসলিম গ্রামে মোহাম্মদ রহিমের বাগানে সন্ধান পাওয়া যায় এই আযান ফুলের। তার ১৫ বছরের শখের বাগানে রয়েছে হরেক রকম ফুল। এর মধ্যে এক প্রজাতির ফুল রয়েছে, যা কেবল আযানের ধ্বনিতেই ফোটে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আযানের সময় এই ফুল ফোটে, আবার আযানের শেষ হলে চুপসে যায়।সিএনএন’ এই ফুলের ভিডিও চিত্র নিয়ে রিপোর্ট প্রচারিত হয়েছে।

এই ফুলকে অনেকেই ইভিনিং প্রাইমরোজ বা সানকাপস বা সানড্রপস নামে চেনেন । ১৪৫ প্রজাতির মধ্যে এটি একটি হলদে রঙের ফুল । ধারণা করা হয় এ ফুলের উৎস আমেরিকাতে। তবে ফুলটির গণ অয়ননথেরা, এটি হারবেকয়াস উদ্ভিদ প্রজাতির বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

অন্য গানের সুর বা কখনও আযানের মতো করে অন্য কোন সুর দিয়েও গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন কিন্তু এ ফুল ফোটেনি। এখন পর্যন্ত এর কোন ব্যাখ্যা নেই বিজ্ঞানীদের কাছে।বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে অনেক গবেষণা করেছেন কিন্তু কখনও এ বিষয়ে কোন কার্যকরী সূত্র আবিষ্কার করতে পারে নি।

তারা এই ফুলের সামনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের মিউজিক বাজিয়ে পরীক্ষা করেছেন, কিন্তু এই ফুল শুধু আজানের সময়ে আজান শুনেই ফোটে এবং আজান শেষে বন্ধ হয়। সবশেষে বিজ্ঞানীরা একটি উত্তর দেন যে, ‘এই রহস্যের সকল উত্তর শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা দিতে পারবেন’।

প্রকৃতির মাঝে অনেক অদ্ভুত আচরণ আছে, যার আসলেই তেমন কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। আর সেই আচরণ যদি ধর্মীয় কাজের সঙ্গে মিলে যায় তবে বলতেই হবে, সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমা!

আযান সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, মুসলমানগণ যখন মদীনায় জড়ো হন তখন কিভাবে নামাযের জন্য ডাকা হবে এ নিয়ে মহানবী তার সাহাবীদের সাথে আলোচনা করেন।

কেউ পরামর্শ দিলেন নাসারাদের ন্যায় ঘন্টা অনুসরণ করতে। কেউ বললেন ইহুদিদের মত শিঙ্গায় ফু দিতে। আবার কেউ আগুন জ্বালানোর কথা বলেন। কেউবা সালাত সালাত বলে ঘোষণা করতে বলেন। রাসুলুল্লাহ (সা:) কারো পরামর্শ গ্রহণ করলেন না।

পরে তিনি আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ (রা:) এর স্বপ্নে পাওয়া বাক্যগুলো শুনলেন এবং সেগুলোকেই সঠিক বলে বেলাল (রা:) গোটা মুসলিমের প্রতি নামাযের জন্য এ আহবান করার নির্দেশ দিলেন। আর এই আহবানই হচ্ছে আযান। এই শাশ্বতবাণী মহানবীর ওই সময় থেকে পৃথিবী জুড়ে আজ পর্যন্ত চলছে। এতবছরে পৃথিবীতে একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি আযান।‘ আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর।

আযান নিয়ে রয়েছে আরো কিছু চমকপ্রদ কাহিনী। একবার আমেরিকান ঘোষক কেট হাম্বেল গেলেন মধ্যপ্রাচ্যে। তিনি আযানের সুমধুর ধ্বনি এবং শাশ্বতবাণী শুনে বিমোহিত হয়ে যান। এক কিলোমিটারের মধ্যে ৩৬টি মসজিদের আযানের ধ্বনি একই সাথে শুনে তার চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেননি ।

নীলআর্মস্ট্রং যখন চাঁদে গেলেন তখন অপরিচিত অস্পষ্ট একটি সুর শুনতে পান। পরে তিনি কোন এক কাজে তিনি মিশরে যান, ওখানে যাবার পর তিনি সেই সুর স্পষ্ট ভাবে শুনে চমকে যান এবং যখন জানতে পারলেন যে ওটা আযান মুসলিমদের নামাযের প্রতি আহ্ববান, তখন তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ।

এই ফুল ফোটার ঘটনাটি আল্লাহর অপার মহিমা….প্রয়োজনে ইউটিউবে সিএনএন এর করা নিউজটি দেখে বিরল দৃশ্যটি দেখে নিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.