পানের চমৎকার ১১ টি গুণ!

পান আমাদের দেশে অনেক বেশী পাওয়া যায়। কেউ নিয়মিত খেয়ে থাকেন আবার অনেকে মাঝে মাঝে খান। মুখ দুর্গন্ধমুক্ত রাখার জন্য অনেকে আবার পান চিবিয়ে থাকেন। পানের সঙ্গে সুপারি এবং অন্যান্য উপাদেয় সামগ্রী খেয়ে থাকেন অনেকে।

এবার জেনে নিব পান খাওয়ার উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতাঃ

১। এন্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে

কোথাও কেটে গেলে দ্রুত সেখানে পানের রস লাগিয়ে দিলে জীবাণু সংক্রমণের কমে যায়। পান পাতা পলিফেনল বিশেষত চাভিকল নামক রাসায়নিক উপাদানে পূর্ণ থাকে। এটা জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।

২। হজমে সাহায্য করে

শুধু পান পাতা চিবিয়ে খেলে বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়।পান খেলে লালাগ্রন্থির নিঃসরণ বেড়ে যায়। ফলে লালার কারণেই হজমের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হয়।

৩। যৌন শক্তি বাড়ায়

এটি একটি পুরনো প্রথা তবে কার্যকর। পানের রস যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে। আগেকার দিনে নববিবাহিতরা বেশী বেশী পান খেতেন।

৪। চর্মরোগ কমাতে পান

দেহের কোথাও চুলকানি ও পাঁচড়া হলে সেখানে পান পাতার রস লাগিয়ে দিলে কয়েক দিনের মধ্যে তা ভাল হয়ে যায়।

৫। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে

খাবার গ্রহণের পর তার কণা মুখের ভেতরে, দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে। এগুলো ব্যাকটেরিয়া পচিয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। পান খেলে তার রস জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এসব ব্যাকটেরিয়াকে জন্মাতে দেয় না। যার ফলে মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দুর্গন্ধমুক্ত হয়।

৬। ক্ষত ও ব্যথা সারাতে পান

পানের বেদনানাশক ও ক্ষত সারানোর ক্ষমতা আছে। কোথাও ব্যথা হলে পান পাতা বেটে মলমের মতো সেখানে লেপে দিলে দ্রুত ব্যথা কমে। দেহের ভেতরে কোথাও ব্যথা হলে পানের রস করে পানিতে মিশিয়ে তা শরবতের মতো খেতে হবে।

৭। ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে পানের ব্যবহার

পাকস্থলী গড়বড় হলে সবই উল্টে যায়। খিদেও লাগে না। পাকস্থলীতে পিএইচের মাত্রা স্বাভাবিক না থাকলেই এরূপ হয়। পান তা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৮। পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে

নানা কারণে পিঠে ব্যথা হতে পারে। বয়স্কদের এ সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। মাংসপেশির টান থেকেও এরূপ ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যথা জায়গায় পান পাতা দিয়ে সেঁক দিলে উপকার মেলে। অন্যভাবে পান পাতার রসের সঙ্গে নারিকেল তেল মিশিয়ে ব্যথা জায়গায় মালিশ করলে ব্যথা কমে।

৯। মুখ ও দাঁতের উপকার করে

দাঁতের মাড়ি দূষিত হলে ফুলে যায় ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে পানের রসের সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে কুলকুলি করলে ধীরে ধীরে ক্ষত শুকিয়ে যায়। মুখগহ্বরে কোনো ক্ষত হলে পানের রসে তার উপশম হয়। পানের রসে এসকরবিক এসিড আছে যা একটি চমৎকার এন্টিঅক্সিডেন্ট। এটা মুখের অন্যান্ন রোগেরও উপোকার করে।

১০। মাথা ব্যথা ও ঠাণ্ডা লাগা দূর করে

মাথা ব্যথা হলে কপালে পানের রস লেপে দিলে মাথা ব্যথার উপশম হয়।ঠাণ্ডা লাগা সারাতে পান ভালো কাজ করে। পানপাতা গরম পানি দিয়ে ছেঁচে রস বের করতে হবে। রসের সঙ্গে এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়া ও আদার রস মিশিয়ে খেতে হবে।

১১। সর্দি বের করতে সাহায্য করে

বুকের ভেতর কফ বা শ্লেষ্মা জমা হলে তা বের করতে পানের রস কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পানের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে কয়েক দিন খেতে হবে। ফলে বুকে জমা কফ বেরিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.