ফুলের রাজ্য সাতলা

ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ পৃথিবীতে আছে বলে মনে হয় না, আর এই ফুল যদি হয়ে থাকে দেশের জাতীয় ফুল তবে তো কথাই নেই। হ্যাঁ বলছি শাপলা ফুলের কথা। এদেশে মূলত সাদা,লাল, বেগুনী রং এর শাপলা ফুল দেখতে পাওয়া যায়।যার মধ্যে সাদা শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল হলেও লাল ও বেগুনী শাপলার কদরের কমতি নেই। তাই আজ সীমানা পেরিয়ে গল্প শোনাবো লাল শাপলার রাজ্য সাতলার।

বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চল বরিশাল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে বিশাল এক বিলের মধ্যে দেখা মিলবে এই রাজ্যের। এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে প্রাকৃতিক নয়োনাভিরাম দৃশ্য আপনাকে বিমোহিত করবেই।

বিশাল এক শাপলা ফুলের সমারোহ মনে হবে আপনি অন্য এক রাজ্যে এসেছেন। সাথে নৌকায় করে শাপলা ফুলের মধ্যে হারিয়ে যেতে যেন নেই মানা। এখানের অপুরুপ দৃশ্য শুধু চোখই নয়, সাথে মনটাও জুড়িয়ে দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেট। এমন সৌন্দর্য দেখতে দেখতে মনে দোলা দেয় কবিতার কিছু গুচ্ছ –

তুমি সুতোয় বেধেছো শাপলার

ফুল নাকি তোমার মন ?

আমি জীবন বেধেছি মরন

বেঁধেছি ভালোবেসে সারাক্ষন।

যাওয়ার পথে উপভোগ করতে পারেন রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ আর যতদূর চোখ যায় সবুজ ফসলের খেত। আর তাই নিজেকে হারিয়ে যেতে দিন এই সৌন্দর্যে , অন্য এক জগত অদ্ভুত এক অনুভূতিতে। সাথে এই দৃশ্য যদি চিরস্থায়ী বন্দী করে নিজের করে নিতে চান তবে অবশ্যই ফটোগ্রাফির জন্য ক্যামেরা নিতে ভোলা যাবে না।

উপযুক্ত সময়

আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত শাপলার সমারোহ থাকে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেশি শাপলা ফুটে। এই তিন মাসের মধ্যে গেলে শাপলার নয়োনাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন, তবে অবশ্যই শাপলা দেখতে চাইলে খুব ভোরে যেতে হবে। কারন শাপলার বৈশিষ্ট অনুযায়ী তীক্ষ্ণ রোদে পাপড়ি গুচ্ছ লুকিয়ে যায় ।

যেভাবে যাবেন

সাতলার শাপলা গ্রামে যেতে চাইলে প্রথমেই দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে বরিশাল যেতে হবে। তবে ঢাকা থেকে যেতে চাইলে বাস, লঞ্চ অথবা প্লেনে চড়ে যেতে পারেন।

এরপর বরিশাল নেমে যেতে হবে নথুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড, যেখান থেকে পেয়ে যাবেন সাতলার উদ্দেশ্যে সরাসরি বাস । তবে চাইলে আপনি নিজেস্ব পরিবহনের মাধ্যমেও যেতে পারেন।

থাকার ব্যবস্থা

সাতলা গ্রামে থাকার তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। তবে বরিশাল শহরে ভালো থাকার হোটেল পেয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.