যে ৫ লক্ষণেই বোঝা যাবে ফুসফুসের সমস্যা

সাধারণত শ্বাসকষ্ট শুরু হলে শ্বাস নেওয়া সম্পর্কে আমরা সচেতন হই। এই শ্বাসকষ্টের বিভিন্ন কারণ হতে পারে। সর্দিকাশি, নিউমোনিয়া যেমন শ্বাসকষ্ট হয় তেমনি হৃদরোগের কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এখানে এমন কিছু কথা আলোচনা করা হয়েছে, যা সম্পর্কে অবহিত হয়ে আপনি আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে পারেন।

১। কাশির সঙ্গে রক্ত আসে এমন অবস্থা

এই ভীতিপ্রদ লক্ষণটি অবিলম্বে সোজা আপনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। রক্ত উজ্জ্বল লাল বা অধিক বাদামী এবং মিউকাসযুক্ত হতে পারে। এটি ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হলেও এর মানে এটা নয় যে আপনার ফুসফুস(Lungs) ক্যানসার আছে। যে কারণেই কাশির সঙ্গে রক্ত আসুক না কেন, একে অবহেলা করা উচিত নয় এবং ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

২। শ্বাসকষ্ট হলে

আপনার মধ্যে কিছু সমস্যার কারণ হতে পারে কোল্ড বা ফ্লু। ডা. মেকি বলেন, ‘যদি আপনার ফুসফুস সমস্যা থাকে অথবা যদি আপনি প্রচুর মানসিক চাপে থাকেন কিংবা যদি আপনি জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট মোকাবেলা করেন, তাহলে কোল্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আপনার ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকবে।’ সংকটাপন্ন বা দুর্বল ফুসফুস কার্যক্রমের কারণে ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া ।

৩। আপনার পা ফোলা ও ব্যথা আছে অথবা স্পর্শ করলে ব্যথা অনুভূত হয়

প্রথমত আপনার মনে হতে পারে এটি আপনার ফুসফুসের কোনো ক্ষতি করবে না অথবা ফুসফুসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এটি পায়ের রক্ত জমাটবদ্ধতা ডিপ ভেইন থ্রম্বসিসের লক্ষণ হতে পারে। ঝুঁকি হচ্ছে, এই রক্ত জমাটবদ্ধতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং ফুসফুসে(Lungs) প্রবেশ করতে পারে- এ অবস্থাকে বলা হয় পালমোনারি এম্বলিজম। ফুসফুসে রক্তের জমাটবদ্ধতা রক্তপ্রবাহে বাধা দিতে পারে এবং মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অন্যান্য লক্ষণগুলো হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নিতে সমস্যা এবং বুকব্যথা।

৪। আপনার শ্বাসকার্যের সময় বুকে শব্দ হলে

ডা. মেকি বলেন, ‘রোগীদের বলি যে যদি আপনি গভীর শ্বাস নিতে না পারেন, আপনার ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন হবে।’ ডাক্তাররা সম্ভাব্য রোগ যেমন- সিওপিডি বা রক্তস্বল্পতা নির্ণয় করতে টেস্ট নিতে পারে । ইউরোপিয়ান রেসপিরেটরি রিভিউর গবেষণা অনুসারে, শ্বাসকার্যের সময় বুকে হুইসেল দেওয়ার মতো বা সাঁইসাঁই শব্দ হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হচ্ছে বার্ধক্যজনিত অ্যাজমা, যা শৈশবে ডেভেলপ হওয়া অ্যাজমার চেয়ে বেশি তীব্র।

৫। আপনার কোনো উপসর্গ নেই

সময়ের বিবর্তনে কখনো কখনো হঠাৎ করে অন্যান্য উপসর্গ দেখাদিতে পারে যেমন- পিঠ ব্যথা, মাথাব্যথা কিংবা অত্যধিক ক্লান্তি। এ কারণে যদি আপনি ফুসফুস(Lungs) ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে (আপনার বয়স ৫৫ উর্ধ্ব হলে এবং ধূমপানের ৩০ বছরের বেশী ধূমপান করে থাকলে), আপনার লো-ডোজ সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে স্ক্রিনিং করানো প্রয়োজন।

যেভাবে আপনার ফুসফুস সুস্থ রাখবেন
তামাক বা ধূমপান বর্জন করা। ফুসফুস(Lungs) হচ্ছে ফিল্টার যা শরীরের অন্যান্য অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে। ক্যানসার সৃষ্টিকারী কার্সিনোজেন ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর ভগ্নাবশেষ দূর করতে সাহায্য করে।তাই ফিল্টার যেন বাধাগ্রস্ত না হয় ও সুস্থ থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। আসাভাবিক কিছু মনে হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.