সৃষ্টির প্রথম মান-মানবী আদম ও হাওয়া (আ.)এর করুণ কাহিনী

একদা হযরত হাওয়া (আ.) একা একা জান্নাতে ঘু’রাঘু’রি করছেন। এমন সময় তিনি একটি কাঁ’ন্নার আও’য়াজ শুনে থম’কে দাঁড়ালেন। হাওয়া (আ.) দা’রুণ বিস্মি’ত হলেন। জান্নাতে তো কোনো মানুষের পদচারণা নেই। তাহলে কা’ন্নার আও’য়াজ কোথা হতে আসছে। একটু এগিয়ে দেখতে পেলেন একজন বয়োজ্যে’ষ্ঠ ফেরেশতা কাঁদছে। আসলে ফেরেশতা ছিলেন না সে ছিল শয়’তান। ফেরেশতারূ’পী শয়তান হাওয়াকে দেখে বলতে লাগলেন-‘আপনার জন্য আমার দুঃ’খ হচ্ছে।

তাই কাঁদ’ছি।’ হাওয়া (আ.) কারণ জানতে চাইলে শয়’তান একটি ফলের গাছের দিকে ইশা’রা করে বললো-এ গাছের ফল যে ভক্ষ’ণ করবে সে কখনো জান্নাত হতে বের হবে না। সে আম’রণ জান্নাতে থাকতে পারবে।

শয়’তান নানা কৌশ’লে মি’থ্যা কথা বলে হাওয়া (আ.)কে প্ররো’চনা দিতে লাগলো। হাওয়া (আ.) বললেন আমি আমার প্রভুর নির্দেশ কিছুতেই অমা’ন্য করতে পারবো না। শয়’তান আবারো তাকে এ ফলের মি’থ্যা গু’ণা’গুণ বলতে শুরু করলো। দুজনের মাঝে কিছু’ক্ষণ এ নিয়ে বা’কবিত’র্ক হলো। হাওয়া (আ.) বলেন খাবো না। আর শয়তান বললো আপনার ভালোর জন্যই ফলটি খেতে বলেছি। এভাবে জে’রা চলছিলো।

দুজনের জে’রার একটি সময় এসে হাওয়া (আ.) শয়’তানেরর প্ররো’চনায় প’ড়ে গেলেন। হাওয়া (আ.) এ নিষি’দ্ধ ফল খেয়ে নিলেন। পরে কৌ’শলে শয়’তান বিবি হাওয়া (আ.)-এর মাধ্যমে আদম (আ.)-এর অজা’ন্তে এ নিষি’দ্ধ ফল ভক্ষ’ণ করিয়ে দিলেন।

যার আলোচনা কোরআনে এভাবে বিবৃ’ত হয়েছে। ‘অতঃপর শয়তান তাদের উভয়ের অন্তরে কুম’ন্ত্রণা প্রদান করলো। যাতে তাদের সতর যা গোপ’ন ছিলো তা তাদের সম্মু’খে উন্মো’চিত করে দেয়া হলো। আর শয়তান বললো, তোমাদের প্রতিপালক যে তোমাদেরকে এ বৃক্ষ হতে বারণ করেছেন। তা শুধু এজন্য যে, তোমরা যাতে ফেরেশতা হয়ে যাও। কিংবা অন’ন্ত জীবন লাভ করো। সে নানারকম শপথ করে বললো, আমি তোমাদের হিতা’কাক্স’ক্ষী হয়ে ভালো উপদেশ দিচ্ছি। অতঃপর সে তাদেরকে ধোঁ’কায় নিপ’তিত করলো। যখন তারা নিষি’দ্ধ গাছের ফল ভক্ষ’ণ করে নিলো। তখন তাদের গু’প্তা’ঙ্গ প্রকাশিত হয়ে পড়লো। অতঃপর তারা লজ্জি’ত হয়ে জান্নাতের পাতা দিয়ে তাদের ল’জ্জাস্থা’ন ঢা’কতে লাগলেন।

এরপর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এই বৃক্ষ হতে বা’রণ করিনি? আর আমি কি বলিনি যে শয়’তান তোমাদের প্রকা’শ্য শ’ত্রু।’ (সূরা আরাফ : ২০,২১)

যখন তারা নিষি’দ্ধ ফল খেয়ে নিলেন তখন আল্লাহ তায়ালা হাওয়া (আ.) ও আদম (আ.)কে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন। বললেন এ মুহূর্তে তোমরা জান্নাতে থাকার যোগ্যতা হারি’য়ে ফেলেছো। সুতরাং তোমরা পৃথিবী হতে ক’ষ্ট সাধ’না করে আমার সন্তু’ষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পুনরায় জান্নাতে ফিরে আসবে। এ সময় মা হাওয়া (আ.) দুনিয়ার পশ্চিম গোলার্ধে জেদ্দা শহরে অবতরণ করলেন। আর আদম (আ.) পূর্ব গোলার্ধে শ্রীলংকার সন্দীপে।

তারপর কয়েক শত বছর পর তারা এক’ত্রিত হয়েছিলেন। এরপর তারা উভয়ে দুনিয়া আবাদ করতে লাগলেন। আল্লাহর নির্দেশে সপ্তম আকাশে অবস্থিত বায়তুল মামুরের নীচে মক্কায় বাইতুল্লাহ শরীফ নির্মাণ করলেন। পৃথিবীতে তাদের মাধ্যমে মানব জ’ন্মের সূ’চনা করলেন। হযরত আদম (আ.)-এর ঔর’সে মা হাওয়া (আ.)-এর গ’র্ভে মোট ২৩৯ জন মতান্ত’রে ৩৬১ জন সন্তান জ’ন্ম গ্রহণ করে। তন্ম’ধ্যে হযরত শীষ (আ.) ছাড়া বাকি সবাই জোড়া জো’ড়া জন্ম হয়েছিলেন। আর বিধান ছিলো এক জোড়ার সহোদর ভাই অপর জোড়ার ভ’গ্নির সাথে বিয়ের বন্ধ’নে আব’দ্ধ হবে। কিন্তু একই জোড়ার পর’স্পর ভাই-বোনদের সাথে বিয়ে নিষি’দ্ধ ছিলো।

মা হাওয়া সবসময় আদিপিতা আদম (আ.)-এর সাথে সাথেই থাকতেন। আদমের প্রতি যেসব বিধা’নাবলী আসতো তা সর্বপ্রথম পালনকারী ছিলেন মা হাওয়া (আ.)। আদম (আ.) আল্লাহর নবী ছিলেন। তাই মা হাওয়া আদম (আ.)কে সেভাবে মে’নেছেন যেভাবে স্বামী হিসেবে মেনেছেন। হযরত আদম (আ.)-এর মৃ’ত্যুর এক বছর পর মা হাওয়া ইন্তে’কাল করেন। সে হিসেবে মা হাওয়া (আ.) এর বয়স হয়েছিলো ৯৬১ বছর। তবে সঠিক বয়সের ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.