মুসলমানের কাফ’নের রং সাদা কেন হয় জানেন?

ইসলামে মৃ’ত মানুষের পোশাক স’ম্পর্কে বিশেষ নি’র্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, মৃ’ত ব্য’ক্তিকে সম্মানজনকভাবে কাফন-দা’ফন ক’রতে হয়। কাফনের পোশাক সাদা হওয়া উত্তম। তার মানে এই নয় যে অন্য রঙের কাপড় দিয়ে কাফন পরানো যাব’ে না। তবে হ্যাঁ, সাদা রঙের কাপ’ড়ে কাফন পরানো উত্তম। কেননা রাসুল (সা.)-এর প্রিয় রং ছিল সাদা।

তিনি সাদা রঙের পোশাক ব্যবহার করা পছন্দ ক’রতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোম’রা সাদা রঙের কাপড় পরিধান করবে। তোমা’দের জীবিতরা যেন সাদা কাপড় পরিধান করে এবং মৃ’তদেরও যেন সাদা কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়। কেননা সাদা কাপড় তোমা’দের সর্বোত্তম পোশাক। (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস ৫২)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোম’রা সাদা রঙের পোশাক পরো। কেননা তোমা’দের জন্য তা সবচেয়ে উত্তম পোশাক। আর তোমা’দের মৃ’ত ব্য’ক্তিদের এটা দিয়েই কাফন দাও। (তিরমিজি, হাদিস ৯৯৪)

কিন্তু কেন এই রং ব্যবহার করা উত্তম? আ’সলে এর মূল কারণ এটাই যে এটি মহানবী (সা.)-এর আদর্শ। তা ছাড়া সাদা বিশু’দ্ধ ও পূর্ণতার রং। সাদা রঙের অর্থ বিশু’দ্ধতা, নির্দোষ, পূর্ণতা ও স’ম্পূর্ণতা। সাদা রং মনকে স্পষ্ট ও বিশু’দ্ধ করে তোলে বলে বিশ্বা’স করা হয়। এ ছাড়া সাদা পরিতৃ’প্তি, বিশু’দ্ধতা, জ’ন্ম, সরলতা, পরিচ্ছন্নতা, শান্তি, নম্রতা, নির্ভুলতা, শীতকালীন, বরফ, ভালো, জবরদ’স্তি, বিবাহ (পশ্চিমা সংস্কৃতি), ঠাণ্ডা প্রভৃতি ভাব প্র’কাশে সাহায্য করে। তাই ইসলামে সাদা পোশাকের ওপর বিশেষ গু’’রুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কেও সাদা কাপ’ড়ে কাফন পরানো হয়েছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে তিনটি ইয়েমেনি সাহুলি সাদা সুতি বস্ত্র দিয়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কামিস ও পাগড়ি ছিল না। (বুখারি, হাদিস ১২৬৪)

এ জন্য প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে মৃ’ত মানুষকে কাফন পরানোর ক্ষেত্রে সাদা পোশাক পরানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তবে এ বি’ষয়টিও স্মর’ণ রাখতে হবে যে অন্য রঙের কাপড় দিয়ে কাফন পরানো নি’ষি’’দ্ধ নয়। বরং ইসলাম চায় এমন কাপড় দিয়ে মৃ’ত ব্য’ক্তিকে কাফন পরানো হোক, যা মৃ’ত ব্য’ক্তির সম্মান প্র’কাশে সহায়ক। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী করিম (সা.) খুতবা দিতে গিয়ে তাঁর সাহাবিদের মধ্যে জনৈক ব্য’ক্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি মা’রা গেলে তাঁকে অ’পর্যা’প্ত কাপ’ড়ে কাফন দেওয়া হয় এবং তাঁকে রাত্রিবেলা ক’বর দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.) আমা’দের এই বলে তিরস্কার করেন যে কেন তাকে রাত্রিবেলা দা’ফন করা হলো।

অথচ তিনি তাঁর জা’নাজা পড়তে পারলেন না। বরং কোনো মানুষ নিরুপায় না হলে এরূপ করা ঠিক নয়। এ বি’ষয়ে নবী করিম (সা.) বলেন, যখন তোমা’দের কেউ তার মুসলিম ভাইকে কাফন দেবে, সে যেন ভালো কাপড় দিয়ে কাফনের ব্যব’স্থা করে। (মুসলিম, হাদিস ২০৭৪)

এ সব কিছু বিবেচনা করে ইসলাম ধ’র্মে মৃ’ত ব্য’ক্তিকে সাদা ও ভালো কাপ’ড়ে কাফন পরিয়ে দা’ফন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.