জানুন, ঋণমুক্ত হওয়ার দোয়া ও আমল!

প্রা’ত্যহিক জীবন প’রিচালনা করতে মা’নুষ বিভিন্ন অবস্থার স’ম্মুখীন হন। মুখোমুখি হন অনেক দুঃখ ক’ষ্টে’র। যার ফলশ্রুতিতে প’রিশ্রম করতে হয় অক্লান্ত। চেষ্টা করতে হয় অনবরত। আর কখনো কখনো বি’প’দ আ’প’দে ঋণ নিতে অন্যের থেকে।

মা’নুষ মূলত দুরবস্থায় পড়লে অন্য মা’নুষের থেকে ঋণ নেয়। যে ঋণ প্রধান করে সেও বি’প’দে কারও স’হযোগিতার জ’ন্য ঋণ দেয়। তাই ঋণ দেওয়া নেওয়া উভ’য়টি স’হযোগিতামূলক কাজ।

তবে ঋণ স’ময়মতো প’রিশোধ করতে বিলম্ব না করা উ’চি’ৎ। ইসলামে সঠিক স’ময়ে ঋণ শোধ করতে বি’শেষভাবে গু’রুত্ব দেয়া হয়েছে। কারণ অনেক স’ময় ঋণ কারো কারো জীবনে দুঃখক’ষ্ট নিয়ে আসে।

দেখা যায় ঋণগ্রহীতা স’ময়মতো ঋণ আ’দায় করতে না পারা’য় হ’তাশায় পড়ে। তাকে ওয়াদা ভঙ্গের অ’ভিযোগে অ’ভিযু’ক্ত হতে হয়। ঋণদাতার থেকে কটুবাক্য শুনতে হয়। স’ম্মা’ন হারা’তে হয়।

এ ক্ষেত্রে ইসলাম দ্রু’ত ঋণমুক্ত হওয়ার জ’ন্য কিছু আমল ও দোয়া শি’ক্ষা দিয়েছেন। যে দোয়াগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে স’হযোগিতা চাইলে দ্রু’ত ঋণমুক্ত হওয়া যাবে। দোয়াগুলো হলো- اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكِ عَمَّنْ سِوَاكَ

বাংলা উ’চ্চারণ : আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা ওয়া আ’গনিনী বিফাদ্বলিকা ‘আম্মা’ন সিওয়া-ক।বাংলা অর্থ:হে আল্লাহ! হারামের প’রিবর্তে তোমা’র হালাল রুজি আমা’র জ’ন্য যথেষ্ট কর। আর তোমাকে ছা’ড়া আমাকে কারো মুখাপেক্ষী করো না এবং স্বীয় অ’নুগ্রহ দ্বারা আমাকে স্বচ্ছলতা দান কর।

হাদিসে এসেছে, একবার হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুর কাছে এক ব্য’ক্তি তার ঋণ প’রিশোধের জ’ন্য কিছু সাহায্য চায়। এ স’ময় আলী রাদিআল্লাহু আনহু তাকে ব’লেন, আমি কি তোমাকে কয়েকটি শব্দ শি’ক্ষা দেব, যা আমাকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শি’ক্ষা দিয়েছেন?

যদি তুমি এটা পাঠ করো, তাহলে আল্লাহই তোমা’র ঋণমুক্তির ব্যা’পারে দায়িত্ব নেবেন, যদি তোমা’র ঋণ প’র্বতস’মা’নও হয়।
এরপ’র হযরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু ওই ব্য’ক্তিকে উপ’রের দোয়া পড়তে ব’লেছিলেন।-তিরমিজি শ’রীফ, হাদিস নং ৩৫৬৩।

আর একটি দোয়ার ক’থা হাদিসে এসেছে, হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিআল্লাহু আনহু ব’লেন, একদিন রসুল সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম ম’সজিদে নববি’তে প্র’বেশ করে আনসারি একজ’ন লো’ককে দেখতে পেলেন, যার নাম আবু উমামা।

রসুল তাকে বললেন, আবু উমামা! ব্যা’পার কী, নামাজের স’ময় ছা’ড়াও তোমাকে ম’সজিদে বসে থাকতে দেখা যা’চ্ছে?
আবু উমামা বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ! অনেক ঋণ এবং দুনিয়ার চি’ন্তা আমাকে গ্রাস করে রে’খেছে।

তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালিমা শিখিয়ে দেব, যেগুলো বললে আল্লাহ তায়ালা তোমা’র চি’ন্তাকে দূর করে দেবেন এবং তোমা’র ঋণগুলো আ’দায় করে দেবেন।

তিনি ব’লেন, জি হ্যাঁ ইয়া রসুলাল্লাহ! অবশ্যই বলুন, তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিম্নের দোয়াটি শিখিয়ে দেন এবং তা সকাল সন্ধ্যায় পড়তে ব’লেন। আবু উমামা ব’লেন, আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দোয়াটি পড়তে লাগ’লাম ফলে আল্লাহ তায়ালা আমা’র চি’ন্তা দূর করে দিলেন এবং আমা’র ঋণগুলোও আ’দায় করে দিলেন।

দোয়াটি হলো- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ বাংলা উ’চ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ই’ন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-‘আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাই’নি ওয়া গালাবা’তির রিজা-ল।

বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আ’পনার আ’শ্রয় নিচ্ছি দুঃশ্চি’ন্তা ও দুঃখ থেকে, অ’পারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মা’নুষদের দ’মন-পীড়ন থেকে। – স’হিহ বুখারি, হাদিস নং ২৮৯৩। মহা’ন আল্লাহ তায়ালা আমাদের স’বাইকে ঋণমুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.