আপনি কি আপনার সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন? জেনে রাখুন এর ৫টি নেতিবাচক দিক

ভালোবাসার বাঁধাধরা কোনো নিয়ম নেই, নেই কোনো সীমাবদ্ধতা। তাহলে কেন আপনি আপনার সঙ্গীকে বেঁধে রাখতে চান নিষেধের জালে? অনেকেই আছেন যারা সঙ্গীকে রাখেন কঠোর নিয়ন্ত্রণে। এটা করা যাবে না, ওটা খাওয়া যাবে না, এখানে যাবে না, অমুকের সাথে কথা বলা যাবে না – এতশত বাঁধার সম্মুখীন হয়ে ভালোবাসার মানুষটি হাঁসফাঁস করতে থাকে।

আপনি যদি এরকমই মানসিকতার হয়ে থাকেন তাহলে জেনে রাখুন, এর কুফল ভুগতে হবে আপনাকেই! আপনার এই আচরণের জন্য আপনার ভালোবাসার মানুষটি ছেড়ে চলে পর্যন্ত যেতে পারেন! তাই এখনই সাবধান হোন। জেনে নিন সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ার মানসিকতা থাকলে তার নেতিবাচক দিকগুলো।

১. এটি অসুস্থতার পরিচায়ক
আপনার যদি সঙ্গীর ওপর খবরদারি করার অভ্যাস থাকে তাহলে জেনে রাখুন, এটি এক ধরনের অসুস্থ মানসিকতা। অন্যকে পরিচালনা করা এবং তা থেকে আনন্দ পাওয়া মোটেও সুস্থতা নয়। আপনার জোর-জবরদস্তির অভ্যাস আপনাকে অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইলে সঙ্গীকে সমান মর্যাদা দিন।

২. আপনার সঙ্গীর মন থেকে আপনার জন্য সম্মান হারাবে
আপনি যদি প্রতিনিয়তই আপনার সঙ্গীকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখেন তাহলে এক সময় তার মন থেকে আপনার জন্য আর শ্রদ্ধাবোধ থাকবে না। আপনি নিজেই ভাবুন, আপনার সঙ্গীর মনে যদি আপনার জন্য সম্মানই না থাকে তাহলে এই সম্পর্কের ভবিষ্যত্‍ কী?

৩. সম্পর্ক হতে পারে নিষ্প্রাণ
কোনো সম্পর্কই অগ্রগতি ছাড়া ভালো থাকে না। এটা কীভাবে ঠিক থাকবে যদি আপনি এর অগ্রগতিকে নিজ হাতে রুখে দেন? আপনি যদি আপনার সঙ্গীর ওপর এভাবে খবরদারি করতেই থাকেন তাহলে তা তার জন্য দমবন্ধ পরিবেশের সৃষ্টি করবে এবং আপনাদের সম্পর্ক হবে নিষ্প্রাণ।

৪. সঙ্গীকে হারাতে পারেন
এই ঝুঁকিটাই সবচেয়ে বেশি। আপনি যদি অনবরত তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় থাকেন তাহলে হয়তো আপনার সঙ্গী অন্য কারো সঙ্গে জড়িয়েও যেতে পারেন! এই সম্ভাবনার কথা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। আপনিই ভাবুন, সম্পর্কের মূলে যেখানে ভালোলাগা এবং ভালোবাসা, সেখানে কে-ই বা এমন কুত্‍সিত সম্পর্কে থাকতে চায়?

৫. পুরো জীবন হতে পারে দুর্বিষহ
যদি আপনার সম্পর্কটি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে আপনার পুরো জীবনই ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। কারণ সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ দখল করে থাকে, জীবনের আনন্দময় করে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাই এবার আপনিই ভাবুন, আপনার কি সঙ্গীর ওপর খবরদারি করা উচিত?

Leave a Reply

Your email address will not be published.