চালাক মানুষরা যেভাবে ব্যর্থতা থেকেও সুবিধা আদায় করেন

সফলতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ব্যর্থতার ভয়। ব্যর্থতাকে কাজে লাগাতে আপনার মানসিকতা পাল্টাতে হবে। আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি ছিল, তা থেকে দূরে সরে আসলে চলবে না। ব্যর্থতাকে সুবিধাজনক কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারেন স্মার্ট মানুষরা। এখানে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন কয়েকটি উপায়ের কথা। এর মাধ্যমে ব্যর্থতা থেকে সুবিধা আদায় করতে পারবেন।

১. একটা ভুল করে ফেলেছেন। এ খবরটা সবার আগে আপনিই বসকে জানান। আশা করবেন না যে, ভুলটা কেউ খেয়াল করেনি। তাই চেপে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। এতে হিতে দোষ আপনার ঘাড়ে চাপবে। কিন্তু সবার আগে নিজের ভুল শিকার করে নিলে উল্টো সবাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করবেন।

২. ভুলের দায় স্বীকারের মাধ্যমে আপনার সততার ইমেজ তৈরি হবে। এতে ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাস, সচেতনতা এবং আন্তরিকতা। তবে ভুলের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের চেষ্টা করবেন। কিন্তু অজুহাত তৈরি করতে যাবেন না।

৩. যেকোনো ত্রুটি সামলে নেওয়ার একটা পরিকল্পনা তৈরি করুন। কেবলমাত্র ভুল স্বীকার করে নেওয়ার মাধ্যমেই আপনার দায়িত্ব শেষ হয় না। এটি শুধরে নিতে কার্যকর উপায় নিজেরই বের করে নিতে হবে। খুবই ভালো হয় যদি বসকে সামলে নেওয়ার উপায়গুলো বাতলে দিতে পারেন।

৪. আবার শুধরে নেওয়া মানে এবারের মতো বেঁচে গেলেন। এবার প্রতিরোধের উপায় খুঁজে নিন। ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল না হয়, তার জন্যে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা থাকবে যা প্রতিরোধ করবে। এটি ভবিষ্যতে ভালো কিছু ঘটার উপায়ের পথ তৈরি করে রাখবে।

৫. আবারো হাল ধরুন। ব্যর্থ হওয়ার পর একেবারে হতাশ হয়ে পড়বেন না। সামলে নিয়ে আবারো আগের গতিতে কাজ করে যান। এই হতাশা ক্রমেই আপনাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেবে। যত দ্রুত সম্ভব সব ঠিকঠাক করে আবারো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।

৬. ব্যর্থতাকে সামাল দিতে চিন্তাধারা বড় বিষয়। যারা ব্যর্থতা সামাল দিতে হিমশিম খান, তারা কারণ হিসাবে অলসতা, বুদ্ধিমত্তার অভাব বা অন্যান্য ব্যক্তিগত গুণের অভাবকে দায়ী করেন। তাদের পরিস্থিতির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু একে শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে নিলে কাজে লেগে যাবে।

৭. আশাবাদ এমন এক মানসিকতা যা ব্যর্থ মানুষকে আবারো মূল কাজে ফিরিয়ে আনতে পারে। এক ব্রিটিশ গবেষণায় ৫৭৬ জন উদ্যোক্তার ওপর গবেষণায় চালায়। এরা সবাই আশাবাদী ছিলেন। যার কারণে ব্যর্থতা সত্ত্বেও ফিরে এসেছেন এবং সফল হয়েছেন।

৮. অধ্যবসায় এমন এক জিনিস যা আশাবাদীদের কর্মমুখী করে তোলে। অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যান, লক্ষ্যে উপনীত হন। অধ্যবসায়ীদের আশাবাদ কখনো নষ্ট হয় না। ব্যর্থতাকে তার সর্বোচ্চ কাজে লাগান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.