ডে’টিং এ ৮ ধরনের মহিলাদের থেকে সাবধান

প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবন জুড়ে। সে থাকুক, তাই বলে যার তার সঙ্গে তো আর প্রেম করা যায় না! প্রেম করলে স্বাস্থ্য, মন সব কিছু ভালো থাকে। আমরা না, এটা বলছেন মনোবিদরা। তবে যদি সঠিক সঙ্গী মেলে তবেই। আর যদি ঠিক সঙ্গী না পান, তা হলে এক কথায় লাইফ হেল! ঝোঁকের মাথায় তেমন কাউকে বিয়ে করে ফেললে তো আর কথাই নেই। গোদের ওপর বিষফোড়া যাকে বলে।

ইংরেজিতে একটা কথা আছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর। মানে, ভুল করে পস্তানোর চেয়ে ভুল করার আগে সাবধান হওয়া ভালো। তাই সাবধান হওয়ার টিপস দিচ্ছি আমরা। যদি নতুন ডেটিং করেন, তবে এই ৮ ধরনের মহিলাদের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। দেখে নিন কেমন তাঁরা।

১) উগ্র না’রীবাদীঃ

সমাজে যা কিছু খারাপ হচ্ছে, এবং যা আগামী দিনে হতে চলেছে তা সবই পুরুষদের জন্য হয়েছে এবং হবে। এ ধারণা যাঁদের মাথায় গেড়ে বসে, তাঁদের থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো। শুধু তাই নয়, এঁরা সব ব্যাপারে নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবেন।’বিশ্বে এমন কোনও কাজ নেই যা এঁরা পুরুষদের থেকে ভালো করতে পারেন না। ফলে বুঝতেই পারছেন, আপনি যা খুশি করুন, মন পাবেন না। আপনার প্রতিটি কাজে ভুল খুঁজেত খুঁজতেই জীবন কাটিয়ে দিতে পারবেন ইনি।

২) তুমি নয়, তোমার টাকা চাইঃ

আপনি হলেন উপলক্ষ্য মাত্র, নজর আসলে আপনার ওয়ালেটের দিকে। এ ধরনের মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বেশ খরচ সাপেক্ষ। মানে মেন্টেন্যান্স খরচ খুব বেশি। সম্পর্কে এঁরা খুব বেশি প্রত্যা করেন না, রীতিমতো ডিমান্ড করেন।

‘এটা চাই, ওটা চাই, সব কিছু চাই’। এটা তাঁদের জীবনের মূলমন্ত্র। দামি গাড়ি থেকে সাতমহলা বাড়ি এক নিঃশ্বাসে চাইতে এঁরা যথেষ্ট পটু। যদি সামলাতে পারেন, তবে শুভেচ্ছা রইল। যদি না পারেন তো সরে আসুন।

৩) স্বপ্নচারিণীঃ

রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত তাঁর ‘স্বপনচারিনী’কে ‘বুঝিতে’ পারেননি তো আপনি কোন ছাড়! এঁরা সাধারণত গল্পের বইতে পড়া জগতে বাস করেন। এঁদের কাছে সব কিছু পারফেক্ট হতে হবে। মানে প্রেমের পথে গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো থাকবে। আপনি রাজকুমার রূপে তাঁর সঙ্গে সেই পথ দিয়ে হেঁটে যাবেন। সবটাই ফুল ফুল ব্যাপার।

বাস্তবটা যে কতটা কঠিন তার বিন্দুমাত্র ধারণা এঁদের থাকে না। সাধারণত, এঁরা খুব আদরে পালিতা হন বা আগে যদি কোনও সম্পর্ক থেকে থাকে, সেখানে তাঁকে একেবারে রানির পর্যায়ে তোলা হয়েছিল ধরে নিন। ফলে আপনি যদি তাঁর কোনও ইচ্ছে পূরণ না করতে পারেন তো শিরে সংক্রান্তি।

৪) দ্য অ্যাংরি ইয়াং ওম্যানঃ

‘৭০-এর দশকে অমিতাভ বচ্চনের মহিলারূপ কল্পনা করে নিন। রাগ এঁদের নাকের ডগায় থাকবে সব সময়। আপনার সঙ্গে কথা বললেও মনে করবেন, দয়া করলাম। আসলে এর পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণ থাকে।

তার মধ্যে প্রথমটা বার বার প্রত্যাখ্যাত হওয়া হতে পারে। ফলে সেই সব সম্পর্কের জমা-খরচের হিসেব কষে এঁরা সব পুরুষকেই নিজেদের ব্যক্তিগত শত্রু মনে করেন। অবস্থা-পরিস্থিতি না বুঝে যে কোনও সময় এঁরা নিজে থেকেই রাগে ফেটে পড়তে পারেন।

৫) মিস অনিশ্চয়তাঃ

প্রথম প্রথম কিছুই বুঝতে পারবেন না। ব্যবহার অতি মনোরম থাকবে। পারলে ​আপনাকে মাথায় বসিয়ে রাখেন। কিন্তু যখন ইনি খাপ খুলবেন তখন আপনি পালাবার পথ পাবেন না। দিনে অন্তত বার পঞ্চাশেক ফোন করবেন। মেক আপ থেকে পোশাক, সব ব্যাপারেই মারাত্মক খুঁতখুঁতে এবং আপনাকেই এ ব্যাপারে মতামত দিতে হবে।

তার সঙ্গে চোখের কোলে গ্যালন গ্যালন জল। এতে কাজ না হলে হঠাত্‍ রেগে যাওয়া। আর সব সময় ভয়, যদি আপনি অন্য কোনও মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হন। কারণ এঁরা নিজেরাও জানেন, এই স্বভাবের জন্য আপনি অতিষ্ট হচ্ছেন। কিন্তু তাতে এঁদের কিছু আসে যায় না। তাঁর শুধু একটাই দাবি, আমায় দেখো, আমায় ভাবো, আমায় চোখে হারাও।

৬) সদ্য সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসাঃ

ব্রেক আপ হয়েছে মাত্র ক’ দিন। এর মধ্যেই ফের সম্পর্ক। এঁরা সাধারণত আগের সম্পর্কের ক্ষত নিয়েই পরবর্তী সম্পর্ক তৈরি করেন। ফলে পুরনো ক্ষত মাঝে মধ্যেই উঁকি মারবে। এঁরা একাধারে রোম্যান্টিক হবেন, অন্য দিকে তাঁর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোটাও ভীষণ মুশকিল হবে। এঁরা ফ্লার্টও করবেন, কিন্তু আগের সম্পর্ক নিয়ে মাথাও খারাপ করবেন।

৭) এখনই বিয়ে করবঃ

মনে হবে, বিয়ের পুরোহিত থেকে আসর সব রেডি করে ডেটিংয়ে বেরিয়েছেন। কোনও ক্রমে আপনাকে নিয়ে সেখানে ফেলতে পারলেই হয়। ব্যস্, সাত পাকে একেবারে বেঁধেই ফেলবেন। প্রথম ডেট হোক বা পঞ্চাশতম, ইনি সব সময়ই উতলা। অত জেনে বুঝে কী হবে! শেষ পর্যন্ত তো বিয়েই করব। এটাই তাঁদের জীবনের মূলমন্ত্র। একটা ব্যাপার মনে রাখবেন, শুধু আপনি নন, এঁরা যার সঙ্গেই ডেট করুন, এফেক্ট সেই একই থাকবে।

৮) পরিচালকঃ

যত বড় অভিনেতাই আপনি হোন না কেন, ইনি পরিচালকের সিটে বসবেন সব সময়। আপনি কী খাবেন, কী পরবেন, কোথায় যাবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন এমনকী আপনি কখন বাথরুমে যাবেন সেটা পর্যন্ত এঁরা ঠিক করে দেবেন। আপনার ইচচ্ছা-অনিচ্ছার কোনও দাম নেই। যদি বিদ্রোহের কথা ভুলেও ভাবেন, তা হলেই পরিস্থিতি একেবারে অগ্নিগর্ভ। ছলে, বলে, কৌশেলে যে কোনও উপায়ে আপনাকে কথা শুনিয়ে তবে তিনি খান্ত হবেন। সেটা মেনে নেওয়া ছাড়া আপনার কাছে দ্বিতীয় কোনও রাস্তা খোলা থাকবে না

Leave a Reply

Your email address will not be published.