রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমার কারন এবং বাড়ানোর উপায়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বেশি আমাদের সকলেরই আছে। বয়সের সাথে সাথে এটা কমতে থাকে। বয়স বৃদ্ধির পেলে আমাদের দেহে পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। যার কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তবে শিশু ও কম বয়সী মানুষদেরও মাঝেমাঝে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম থাকতে পারে। রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই জরুরি। রোগ প্রতিরোধ করার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি না থাকলে যে কোন রোগেই জর্জরিত হয়ে যেতে পারেন আপনি। ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও তখন বেশি হয়।

তাহলে জেনে নেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঘাটতি কেন দেখা দেয়! রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমার কারন  অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাদ্য আপনার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কোমল পানীয়, টমেটো সস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। তাই খাদ্য তালিকা থেকে এসব বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা খুব বাজেভাবে আপনার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই অতিরিক্ত টেনশন করে দেহের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রম কখনোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

অতিরিক্ত কাজের চাপ আপনাকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে দেয়। ফলে অচিরেই আপনি রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম বারানোর জন্য কিছু সামান্য পরিবর্তনই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তাহলে জেনে নেই কী কী উপায়ে আমরা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারবো।

ভিটামিন সি দেহের ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে বেশ কার্যকরী। এটি মানব দেহের জন্য অনেক জরুরি একটি মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট। যা আমাদের দাতেঁর গোঁড়া শক্ত করতে, ত্বক উজ্জ্বল করতে ও চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি ক্যান্সার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বেটিসের মতো রোগ মোকাবেলা করতে সাহায্য করে। আমরা খুব সহজেই ভিটামিন সি পেতে পারি। যেমন- জাম্বুরা, আমলকী, বরই, আমড়া, পেয়ারা, বাতাবী লেবু ইত্যাদি। সবুজ শাক সবজী যেমন- কাঁচা মরিচ, পুঁইশাক, কাঁচা পেঁপে, পালং শাকেও প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে।  জিঙ্ক রক্তের শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে জিঙ্ক। শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষমতা হ্রাস পেলে দেহের ইমিউন সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই দৈনিক খাদ্যতালিকায় কাজু বাদাম, শিমের বিচি, কাঠ বাদাম, চীনাবাদাম, দুধ, মাখন ও পনির রাখলে জিঙ্কের অভাব পূরণ করা সম্ভব হবে। প্রোটিন প্রোটিন গ্রহণ করা খুবই প্রয়োজন।

প্রোটিন আমাদের দেহের বিভিন্ন ঘাটতি পূরণ করে। বিভিন্ন রোগ বালাই মোকাবেলা করতে প্রোটিনের জুড়ি নেই। শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তি বাড়াতেও প্রোটিন বেশ কার্যকরী। মুরগীর মাংস, ডিম, সামুদ্রিক মাছ, কচু শাক ও বিভিন্ন প্রকার ডালে রয়েছে ভালো মানের প্রোটিন। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন সমন্বিত খাদ্য রাখতে হবে। ব্যায়াম ঘরে সামান্য ব্যায়াম, যোগাসনের মাধ্যমেও ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধি পায়। পারলে রোজ ৪০-৫০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। এতেও আপনার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে সুস্থ থাকার জন্য হাসিখুশি থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণ ও মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.