আগুন লাগলে অত্যন্ত জরুরি কিছু কাজ

যে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সময় মানুষের গায়ে আগুন লেগে যেতে পারে। তাই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না যে কি করব । দ্রুত কিছু ব্যবস্থা নিলে প্রাণ বাঁচানো সহজ হয়।  কেউ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলে তার পরিহিত কাপড় ও গহনা  দ্রুত খুলে ফেলতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়াপার থাকলে সেটি খুলে ফেলতে হবে। কোন ধাতব পদার্থ বা কাপড়ের টুকরো পেশীর সাথে যদি আটকে গিয়ে থাকে তাহলে তা সরানোর চেষ্টা করা যাবে না। তাতে ক্ষত আরো বেশি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।  আগুনে পোড়ার প্রথম আধাঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এসময় রোগীর শরীরে যত বেশি সম্ভব পানি ঢালতে হবে। শুধু পানি ঢেলেই পোড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে। যেখানে ৩০ ভাগ পুড়তো সেটাকে হয়তো ২০ বা ১৫ ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব। আগুনে পোড়া রোগীকে তার ক্ষত স্থানের উপর টুথপেস্ট, লবণ বা ডিমের সাদা অংশ দেয়া যাবে না। এটি প্রাথমিকভাবে জীবাণুমুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে সংক্রমণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আর তখন এগুলো জমাট বেঁধে থাকে বলে চামড়া উঠে আসার শঙ্কা থাকে। অর্থাৎ তার ক্ষত আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যদি রোগীর মুখ কিংবা চোখ পুড়ে যায় তাহলে রোগীকে যতক্ষণ সম্ভব সোজা করে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। আগুনে পোড়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে মধ্যে যত দ্রত সম্ভব হাঁসপাতালে নেয়া গেলে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। আগুনে পোড়া রোগীকে স্যালাইন দেয়া সম্ভব না হলেও ডাবের পানি বা তরল জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। এছাড়া চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন ক্যালরি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন ডিম বা মুরগি খাওয়ানোর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.