সম্পর্কের স্বার্থে যে কথা যায়না বলা !

বলা হয়ে থাকে সম্পর্ক গড়ার চেয়ে সম্পর্ক রক্ষা করা কঠিন, তাই, সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য আপনার বেঁছে নেওয়া উচিত কিছু রক্ষণাত্মক কৌশল। সম্পর্ক তা নতুন হোক আর দীর্ঘদিনের পুরনোই হোক, সবক্ষেত্রেই কথাবার্তার সময় এমন কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত যেন তা সঙ্গীকে আঘাত না করে।

অনেক কথা আছে যা সত্য হলেও সম্পর্কের খাতিরে বলা যায় না। কারণ এমন কিছু কথা রয়েছে যা সম্পর্কের মাঝে ফাটল তৈরি করতে পারে এবং ডেকে আনতে পারে আপনার বিপদ। একবারে না হলেও ধীরে ধীরে এসব কথার মাধ্যমে নষ্ট হতে পারে সম্পর্ক। সম্পর্কের স্বার্থে আপনাকে বর্জন করা লাগতে পারে এজাতীয় কথা। তাই টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এ লেখাটি পড়ে দেখুন, আপনি কি এমন কোনো কথা প্রায়ই আপনার সঙ্গীকে বলেন?

“তুমি সবসময়…..’ বা ‘তুমি কখনোই…..’

আপনি আপনার সঙ্গীকে এমন কথা বলেন কি না চিন্তা করে দেখুন তো? “তুমি সবসময়….. (শূন্যস্থান পূরণ করুন)” বা “তুমি কখনোই….. (শূন্যস্থান পূরণ করুন)”
তুমি সবসময় এটা করো বা ওটা করো। অথবা তুমি কখনোই এটা করো না…. এমন কথা বলার আগে একটু চিন্তা করুন, এসব কথাবার্তা কি সম্পূর্ণ সত্য? তা যদি না হয়, তাহলে এর বিকল্প কোনো কথা বলুন। আপনি ইচ্ছা করলে কিছু ঘুরিয়ে কথা বলতে পারেন কিন্তু এমন কোন কথা বলবেন না যাতে আপনার সঙ্গী/সঙ্গিনী কোনরকম দুঃখ পায়।

অমুক কত আকর্ষণীয়ঃ-
আপনার সঙ্গীকে যদি অন্য কারো সঙ্গে তুলনা করেন এবং অন্যকে তার চেয়ে আকর্ষণীয় বলেন, তাহলে এটা সত্যিই বড় সমস্যা তৈরি করে। অধিকাংশ মানুষ জেনে না জেনে এই কাজটি করে থাকে, এটি কোনো লঘু সমস্যাকেও অনেক বড় করে তৈরি করতে পারে। আপনি যদি এই কাজটি করে থাকেন তবে আজ থেকেই বর্জন করুন, আপনার এই কথা অনেক বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আমার সাবেক (প্রেমিক/ প্রেমিকা) এর চেয়ে ভালো করতোঃ-

আপনার সাবেক কোনো সঙ্গীর চেয়ে বর্তমান জন খারাপ, এমন মন্তব্য কখনোই ভালো ফল বয়ে আনে না। এজাতীয় কথাবার্তা অনেকক্ষেত্রে আপনার জন্য হয়ে উঠতে পারে বিপদের কারণ, এমনও দেখা গেছে যে, অনেকর সংসার ভেঙে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এজাতীয় কথা।

আর কিছুদিন কষ্ট করে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিঃ-

এমন কথা বলার পর নিশ্চিন্তে ধরে নিন একটা বড় সমস্যা তৈরি করলেন। যদি কয়েক মিনিট পরে এমন বক্তব্য অস্বীকার করেন, তাও এ সমস্যা মিটবে না। সমস্যা বরঞ্চ বেড়ে যাবে, এজাতীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন এবং এমন কোন কথা বলবেন না, যা ভবিষ্যতে আপনার সম্পর্ক ভাঙার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আমি আগে আমাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম…..

আপনি এমন কোনো মন্তব্য করার আগে একবার চিন্তা করে নিন। সত্যিই কি আপনি এটা বলতে চান? আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী যেই হোক না কেন এ কথাতেই নষ্ট হতে পারে আপনার সম্পর্ক। তাই, এজাতীয় কথা বলার আগে ভালোভাবে চিন্তা করে নিন।

আমাদের সন্তানের এমন সমস্যার পেছনে দায়ী তোমার জিনঃ-

আপনি যদি সন্তানের কোনো দোষের জন্য আপনার সঙ্গীর জিনকে দায়ী করেন তাহলে তা নিঃসন্দেহে তাকে আঘাত করলেন। এটা অনেকটা কোনোকিছুর জন্য তাকে অন্ধভাবে দায়ী করার মতো। এর পাশাপাশি যদি আপনি বলেন, “কী করণে যে তোমাকে বিয়ে করেছিলাম”, তাহলে আপনার সম্পর্ক নিঃসন্দেহে হুমকির মুখোমুখি পড়বে।

তুমি ঠিক তোমার বাবা/মায়ের মতো….

কোনো দোষের বিষয়ে যদি আপনার সঙ্গীকে তার বাবা বা মায়ের সঙ্গে তুলনা করেন তার মতো বিব্রতকর বিষয় আর হয় না। এতে করে মানসিক দূরত্ব বাড়বে বৈ কমবে না, কারণটা নিশয় আর ভেঙে বলতে হবে না!

এটা তোমার সবসময়ের সমস্যাঃ-

সমস্যা মানুষের থাকবে এটাই স্বাভাবিক, এখন সঙ্গীর যদি কোনো সমস্যা হয়, আর সেটাকে আপনি তেমন একটা পাত্তা না দিয়ে তার “সবসময়ের সমস্যা” বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে এটা সত্যিই বিব্রতকর। যেখানে প্রত্যেকেরই নিজের সমস্যার ওপর একটা ধারণা থাকে।

এ ধারণা বাদ দিয়ে সমস্যাকে “সবসময়ের সমস্যা” বলে একটা নির্দিষ্ট রং চড়ানোর মতো মন্তব্য নিঃসন্দেহে সঙ্গীর কাছ থেকে আশা করে না কেউ। আর এর ফলাফলটা যে আঁখেরে ভাল হয়না সেটা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.