প্রিয়জনের সাথে প্রথম দেখা

বিভিন্ন মাধ্যমে আজকাল অপরিচিত অনেকের সাথে অনেকের বন্ধুত্ব, প্রেম সহ বিভিন্ন সম্পর্ক হয়ে যাচ্ছে। যেমন – ফেসবুক, মোবাইল কিংবা বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়েও। কিছুদিন দূর থেকে ফেসবুক চ্যাটিং কিংবা মোবাইলে কথা বলার পর স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সাথে দেখা করার তাগিদ অনুভব করেন।

কিন্তু দুজনের মধ্যেই প্রথম দেখা করার বিষয়টিকে নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্ধ কাজ করে। এর ফলে করি করি করেও দেখা করাটা হয়ে ওঠে না। তবে এই দেখা করাটা যতটা দেরি হবে সম্পর্কটি গভীরতা পেতেও ততটা দেরি হবে। দূর থেকে কেউ কারো সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে কোনো সম্পর্ক এগিয়ে না নিয়ে গিয়ে সামনাসামনি দেখা করে সম্পর্কটাকে পাকাপোক্ত করাই ভালো।

নয়তোবা মাসের পর মাস দূর থেকে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে যখন দ্বিধাদ্বন্ধ ঝেড়ে ফেলে দেখা করলেন তখন হয়তোবা সেই মানুষটিকে আপনার মনের মতো হলো না। তখন কি করবেন? তাই শুরুর দিকেই দেখা করে নিয়ে তারপর সম্পর্কটাকে কোন দিকে নিয়ে যাবেন সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে জীবনের ওপর তা তেমন কোনো খারাপ প্রভাব ফেলে না। আর এই প্রথম দেখাটা যতটা ভালোভাবে হবে সম্পর্কটার ভবিষ্যৎ ততটাই সুন্দর হবে। আসুন প্রথম দেখা করার বিষয়ে কিছু টিপস জেনে নিই।

নার্ভাসনেস বিষয়টিকে মন থেকে যতটা সম্ভব ঝেড়ে ফেলতে হবে। এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি কাজ করে সেই মানুষটির সামনাসামনি হলে। তার চোখে যদি আপনার নার্ভাসনেস ফুটে ওঠে তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাসী মনোভাবটি তার কাছে ফিকে হয়ে যাবে। আপনি যেমন তাকে প্রথম দেখছেন সেও আপনাকে প্রথম দেখছে।

তাই প্রথম দেখা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনেকে ভাবে তিনি যার সাথে দেখা করতে গিয়েছেন সেকি তাকে পছন্দ করেছে কিনা, কিংবা তাদের সম্পর্কটা ভবিষ্যতেও থাকবে কিনা। যেকোনো সম্পর্কেই কারো কোনো হাত নেই। আপনি চাইলেও অনেক সময় কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। আবার চাইলেই কোনো সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলা যায় না।
ফ্লার্ট হয়তো অনেকেই পছন্দ করেন না।

কিন্তু প্রিয়জনের সঙ্গে একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আপনি ফ্লার্ট করলে তা তাকে খুশিই করবে। এই যেমন ধরুন ঠোঁটে হালকা হাসি রেখে সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা তাকে হাসাতে পারে। এছাড়াও আমরা যখন কারো প্রতি আকৃষ্ট হই বা কারো সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, তখন নিজেদের অজান্তেই আমরা তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অনুকরণ করতে শুরু করি।

আর যখন আমরা এটা করি, তখন অপর পক্ষ সহজেই তা লক্ষ্য করে এবং এটা তাদেরও আমাদের প্রতি আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে। তবে আপনি চাইলে ইচ্ছা করেই তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের অনুকরণ করতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন তা যেন “মজাদার” না হয়ে “আজব” হয়ে না যায়! তাহলেই কিন্তু দিনটা নষ্ট হয়ে যাবে।

আপনি হয়তোবা আপনার বন্ধু মহলে খুব ভালো একজন বক্তা। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা শ্রোতার ভূমিকাও পালন করতে হবে। তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিলে আপনারই বরং ক্ষতি হবে। তাই যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বলা ভালো। বিশেষ করে তার কথার মাঝখানে অন্য কোনো কথা না ঢুকিয়ে দেওয়া এবং কথা শোনার মধ্যে মনোযোগী ভাব ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে এবং তার কথা শেষ হলে তখন তার কথার পিঠে কথা বলতে হবে। তার কথা শেষ হলে চুপচাপ থাকা বোকামির লক্ষণ।

অনেক সময় দেখা যায় প্রথম দেখায় কি নিয়ে কথা বলবে সেই টপিকসটিই ঠিকমতো মাথায় আসে না। আপনার কলেজে-ভার্সিটির কথা বা কর্মক্ষেত্রের কথা বলতে পারেন। প্রিয়জনকেও তার ব্যাপারে প্রশ্ন করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আগে থেকেই মনে মনে কিছু প্রশ্ন তৈরি করে রাখতে পারেন।

তবে প্রশ্ন তৈরি করতে গিয়ে ইন্টারভিউর মতো তালিকা করে ফেলবেন না যেন! প্রশ্ন করতে গেলে তা অবশ্যই ক্যাজুয়াল কথাবার্তার মতোই করবেন। আর খেয়াল রাখবেন যেন এমন কোনো প্রশ্ন না করেন যার উত্তর কেবল “হ্যাঁ” বা “না” দিয়ে বলা সম্ভব। এতে করে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন, কথা আর এগোবে না। কী নিয়ে কথা বলবেন তা নিয়ে চিন্তা না করে কথা বলতে শুরু করুন। দেখবেন দক্ষিণের বাতাসের মতোই কথাও তার নিজের মতোই মোড় নিতে শুরু করবে।

প্রথম দেখা করার দিন কোন পোশাকটি পড়ে যাবেন তা ভাবতে ভাবতেই কয়েক রাত নির্ঘুম কেটে যায় অনেকের। খুব বেশি ফর্মাল আবার একেবারে নরমাল না হওয়াই ভালো। নিজের ব্যক্তিত্বের সাথে যায় এমন রুচিশীল পোশাক পড়াই ভালো। আরেকটা বিষয় আপনি যেই মানুষটির সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন তার পছন্দ সম্পর্কে যদি জানা থাকে তাহলে সেই অনুযায়ী পোশাক পড়তে পারেন। আরেকটি বিষয় হলো আপনি যে জায়গাটিতে দেখা করতে যাচ্ছেন সেই জায়গার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

আপনি সুন্দর পরিপাটি পোশাক পড়ে স্মার্ট হয়ে দেখা করতে গিয়েছেন কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এ ক্ষেত মার্কা পরিচয় দিলেন। যার সাথে দেখা করতে গিয়েছেন সে যদি স্মার্ট হয় তাহলে আপনার লোক দেখানো স্মার্টনেস সে ধরে ফেলবে। তাই কারণে অকারণে শরীর নড়াচড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আপনার যদি বিশেষ কোনো অসুবিধা হয় তাহলে তার কাছ থেকে বিনয়সূচক অনুমতি নিয়ে নিতে পারেন।

এতে করে আপনার সম্পর্কে ভালো একটি ধারণা জন্ম নিবে।
মোবাইল বাবাজিকে অন্তত পক্ষে এই দিনটির জন্য একটু দূরে রাখুন। স্বাভাবিক কারণেও যদি আপনি খুব ব্যস্ত একজন মানুষ হন তারপরও এই জিনিসটিকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। দুজনের কথা বলার মাঝখানে যদি হঠাৎ হঠাৎ অন্য কেউ ঢুকে যায় তাহলে বুঝতেই পারছেন কি ঘটতে যাচ্ছে। প্রথম দিনেই এত ব্যস্ত, ভবিষ্যতে কি হবে কে জানে এরকম মনোভাব পোষণ করাটাই স্বাভাবিক।

এবার আসুন কোথায় দেখা করবেন। প্রথম দেখার পর ভবিষ্যতে সম্পর্কটি কোন পথে এগুবো তার অনেকটাই নির্ভর দেখা করার সেই স্থানটির উপর। ধরুন আপনি একটি কোলাহলময় জায়গায় দেখা করলেন। দুজনের কেউই কারো কথা ঠিকমতো শুনতে পারলেন না। আবার এরকম জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকাও যায় না। আবার একেবারে নির্জন কোনো পরিবেশে দেখা করাটাও ঠিক নয়। তাই এমন কোনো জায়গা ঠিক করতে হবে যেখানে কোলাহল নেই আবার নির্জনতাও নেই।

আরেকটা বিষয় হলো ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়েদের পেছনে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে তাদের মন কিনতে। অনেক মেয়ে আছে যারা ছেলেদের নয় তাদের টাকাকে ভালোবাসে। এক্ষেত্রে আপনি যদি প্রথম দিনেই যেচে যেচে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে যান তা হবে আপনার জন্য মস্ত বড় বোকামি। আর যদি টাকা খরচে কিছুটা কৌশলী হন তাহলে সেই ধরনের মেয়ে হলে প্রথম দিনেই পালাবে। যা আপনার নিজের জন্যই ভালো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.