ভুল ফুটুক ফুল হয়ে এবং

কোনো মানুষ বলতে পারবে না যে সাধু। যদি কেউ বলে সাধু তবে সেই মানুষটিই সবচেয়ে বড় ভন্ড এটা আমরা অনেকেই জানি এবং মানি। কিন্তু অনেকে নিজের অপরাধবোধটুকু স্বীকার করতে কুন্ঠিত বোধ করি। এটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা চাইলে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।

সমাজে চলতে গেলে একটু আধটু ভুল হতেই পারে। সেই ভুলটিকে শুধরিয়ে না নিলে তা আরও বড় ভুলের জন্ম দিতে পারে। যা কিনা জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। শেষ মূহুর্তে এসে অনুশোচনা করলেও কোনো লাভ হয় না।

যা হবার তা আগেই হয়ে যায়। তাই অপরাধটাকে বেশি বাড়তে না দিয়ে অঙ্কুরেই তা বিনাশ করতে হবে। অপরাধবোধ থেকে নিজেকে সামলে নেওয়াটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয় মোটেও। তবে এজন্য আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

মানব জাতির সৃষ্টির লগ্নে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মানুষের শুরুটাই হয়েছে ভুল দিয়ে। এই পৃথিবীতে মানুষ এসেছে অনেকটা ভুলের মাশুল দিতে। এখানে ভুলে উর্ধে কোন মানুষ নেই। আগেই বলেছি এখানে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে জীবনে কোন ভুল করেনি।

যদি কোনভাবে ভুল করে থাকুন তা লুকিয়ে রাখার কিংবা অস্বীকার করার চেষ্টা না করে ভুল স্বীকার করাই শ্রেয়। ক্ষমা চাওয়া মানে নিজে ছোট হয়ে যাওয়া নয়। ক্ষমা সবাই চাইতে পারে না। যার মধ্যে বিবেক ও মনুষ্যত্ববোধ আছে কেবল তারাই ক্ষমা চাইতে পারে। যদি আপনি ভুলটিকে শুধরে নেওয়ার জন্য ক্ষমা না চান তাহলে এই ভুল বা অপরাধবোধই আপনাকে ঠুকরে ঠুকরে খাবে। আপনাকে নতুন কোনো ভুল বা অপরাধের দিকে ঠেলে দিবে।

একমাত্র বোকারাই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে। বুদ্ধিমানরা সব সময় নিজের ভুল থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে। ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকে। তাই একই ভুল বা একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

আর ক্ষমা করাও একটি মহৎ গুণ। তাই সকলেরই উচিত অপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে নতুন করে শুরু করতে দেওয়ার। যদি তা না হয় তাহলে পরবর্তী ভুল বা অপরাধগুলোর জন্য সেই ব্যক্তির বিবেকের কাছেও সে দায়ী থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.