ডিপ্রেশন ও হৃদরোগ

ডিপ্রেশন বা মনের অবসন্ন ভাব হৃদরোগকে প্রভাবিত করে। ডিপ্রেশনে হার্টের ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। কোন রোগী যদি ডিপ্রেশনে ভোগেন তবে তার শরীরে অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোন তৈরি হয়।

এই হরমোন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃৎপিন্ডের ধমনীতে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে। হৃৎপিন্ডের ধমনীতে ব্লক হলে হৃৎপিন্ড কম রক্ত পায় এবং মাঝে মাঝেই বুক ব্যথা হয়। দেখা গেছে যাদের হৃৎপিন্ডে ব্লক থাকে তাদের অনেকের মস্তিষ্ক বা ব্রেনের ধমনীতেও ব্লক থাকে। এদের স্ট্রোক হবার সম্ভাবনাও বেশী থাকে।

স্ট্রোকের ফলে মনের অবস্থার পরিবর্তন হয় এবং স্ট্রোক ডিপ্রেশনকে ত্বরান্বিত করে।
দেখা যায় যারা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত তাদের ধুমপান করার প্রবণতা বেশী। তারা ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করেন না এবং শারীরিক পরিশ্রমও করতে চাননা। হতাশায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ওষুধ পর্যন্ত ঠিকমত খেতে চায় না।

ফলে তাদের হৃদরোগ দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসে। যারা ডিপ্রেশনে কষ্ট পাচ্ছেন তাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোনের কারণে হৃদরোগেও কষ্ট পান। অনেকেই ভাবেন হৃদরোগ মানেই জীবন শেষ। তখন তারা আরো গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হন।

কিন্তু আসলে হৃদরোগ মানেই যে জীবন শেষ তা নয়। বর্তমানে হৃদরোগের প্রায় সব ওষুধই আমাদের দেশে পাওয়া যায়।
এগুলোর দামও খুব একটা বেশী নয়। কেউ যদি নিয়ম মেনে চলে এবং ঠিকমত ওষুধ খান তবে তিনি অনেকদিন ভাল থাকতে পারেন। এই কথাটি ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ডিপ্রেশন বিরোধী অনেক ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়। সঠিক চিকিৎসা নিলে ডিপ্রেশনকে বিদায় জানানো সম্ভব। সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকেই যথাযথ চিকিৎসা পাননা।

হৃদরোগের সাথে যেমন বিষন্নতা বা ডিশ্রেশনের সম্পর্ক আছে তেমনিভাবে ডিপ্রেশনের সাথেও হৃদরোগের সম্পর্ক আছে। তবে সঠিক চিকিৎসায় ডিপ্রেশন বা হৃদরোগ দুটোই সারিয়ে তোলা যায়। সুতরাং দুশ্চিন্তার কিছুই নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.