বি’ষফোড়া কেন হয় এবং জেনে নিন প্র’তিকার।

তীব্র বে’দনাসহ ফোলা বা ত্বকে একাধিক ফোঁ’ড়া, যারা সাধারণত স্টাফালোলোকোক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত একটি সাংঘাতিক ধ’রনের ফোড়া। ফোড়ার অনেকগু’লি ছোট ছোট মুখ থাকে। একেই মূলত কার্বাঙ্কল বলে।

কার্বাঙ্কল সাধারনত কোমর, ঘাড়ে, পিঠে ও কনুইতে বেশী দেখা দেয়।

কয়েক দিনের যন্ত্রণার পর যেমন সেরে যেতে পারে কার্বাঙ্কল, তেমনই তা আবার গু’রুতর আ’কারও নিতে পারে। তাই কার্বাঙ্কল হলে প্রয়োজন বাড়তি সত’র্কতা। প’রিস্থিতির দিকে নজর রাখা দরকার এবং প্রয়োজন বিশেষজ্ঞের পরাম’র্শ।

কার্বাঙ্কল কেন হয়?

মূলত, যাদের শ’রীরে রো’গ প্র’তিরো’ধ ক্ষ’মতা দু’র্বল, কার্বাঙ্কল তাদেরই হয়ে থাকে। আবার কোনও সু’স্থ, স্বা’ভাবিক মানুষের দীর্ঘ বা জটিল রো’গভোগের পর শ’রীরের রো’গ প্র’তিরো’ধ ক্ষ’মতা কমে গেলেও কার্বাঙ্কল হওয়ার আশ’ঙ্কা থেকে যায়।

লক্ষ করলে দেখা যায়, কার্বাঙ্কল ত্বকের এক কিংবা একাধিক রোমকূপকে কে’ন্দ্র করেই হয়ে থাকে। অনেক সময়ে, মানুষের ত্বকে এক ধ’রনের ব্যাকটিরিয়া (স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিউস) জ’ন্ম নেয়।

 

সেই ব্যাকটিরিয়াগু’লি ত্বকের রোমকূপের ছিদ্র দিয়ে শ’রীরে প্রবেশ করে ইনফেকশন তৈরি করে। এর পর ব্যাকটিরিয়া, শ’রীরের মৃ’ত কোষ ও ত্বক-কোষ মিশে পুঁজ তৈরি হয়ে ‘সোয়েলিং’ শুরু হয়। যা ত্বকের বাইরে বেরিয়ে আসতে চায়।

পরিচ্ছন্নতার অভাব কিংবা কার্বাঙ্কল হয়েছে এমন ব্য’ক্তির সংস্প’র্শে এলে ব্যাকটিরিয়া ত্বকে বাসা বাঁধতে পারে। লক্ষ করলে দেখা যায়, কার্বাঙ্কল শ’রীরের সেই সকল অংশেই বেশি হয়ে থাকে, যে সকল অংশে ঘাম বেশি হয়। যেমন- ঘাড়, পিঠ, কোমর, হাঁটুর পিছন দিকের অংশ, আর্মপিট ইত্যাদি।

উপস’র্গ
ব্যাকটিরিয়া ত্বকের কোনও অংশে ইনফেকশন তৈরি করেছে বা করছে, তা আপনি ত্বকের উপর থেকে প্রথমে বুঝতে পারবেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শ’রীরে কোনও নির্দিষ্ট অংশের ত্বকের উপরিভাগ কিছুটা শক্ত হয়ে যায় এবং জায়গাটি টিপলে ব্য’থা লাগে।

পরে দেখা যায়, সেই জায়গাতেই হয়েছে কার্বাঙ্কল। প্রসঙ্গত, কার্বাঙ্কল বেশ ক’ষ্টকর এবং সেটি টানা কয়েক দিন আপনাকে ভোগাবে। এমনকি, কার্বাঙ্কলের আ’কার বড় হলে জ্বরও আসতে পারে। তবে এতে ভ’য় পাওয়ার কিছু নেই। সাধারণ ফোঁড়া এবং কার্বাঙ্কলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

করণীয়
যদি সম্ভব হয় যে অংশে কার্বাঙ্কল হয়েছে, সেই জায়গাটি খোলা রাখার চেষ্টা করুন। এতে রো’গী স্বস্তি বোধ করবেন। তবে আপনাকে যদি পড়াশোনা কিংবা কাজে’র প্রয়োজনে বাইরে বেরোতেই হয়— চেষ্টা করুন পাতলা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরার।

এতে কার্বাঙ্কলের অংশটিতে মোটা এবং ভারী কাপড়ের ঘষা লাগবে না। মনে রাখা দরকার, কার্বাঙ্কল কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ছোঁয়াচে।

ফলে ত্বকের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই একবার ব্যবহার করা পোশাক সাবান দিয়ে না কেচে ফের ব্যবহারের কথা ভাববেন না। আবার কার্বাঙ্কল উপশমের যে যে উপায় রয়েছে, সেগু’লি নিজেই প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন।

পরিবারের কারও বা প্রিয়জনের সাহায্য না নেওয়াই ভালো। এতে তার শ’রীরেও কার্বাঙ্কল ছড়িয়ে পড়ার আশ’ঙ্কা থেকে যাবে।

যে ব্যাকটিরিয়া থেকে সাধারণত কার্বাঙ্কল হয়ে থাকে, বিশেষ প’রিস্থিতিতে সেটি র’ক্তের স’ঙ্গে মিশে গেলে তা হৃদ্যন্ত্র, ফু’সফুস এবং শ’রীরের ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম’-এ প্র’ভাব ফেলতে পারে।

তাই কয়েক দিনের মধ্যে যদি কার্বাঙ্কল না কমে, তা হলে বিশেষজ্ঞের পরাম’র্শ নিন। অনেকের ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি খোঁটাখুঁটির অভ্যেস রয়েছে। কার্বাঙ্কলের ক্ষেত্রে তা একেবারেই করবেন না। জো’র করে পুঁজ বার করার চেষ্টা করলে ত্বকে গ’ভীর ক্ষ’ত তৈরি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.