ঘুমের ধরণই মুক্তি দেবে এসব রোগ থেকে।

সারাদিনের পরিশ্রমের পর ঘরে ফেরা। রাতের পরিপূর্ণ ঘুম আপনাকে পরদিন নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি পাবেন। ঘুম আমাদের ক্লান্তি দূর করে, শরীরকে চাঙ্গা রাখে।

এজন্য শরীর অসুস্থ হলেই কিন্তু ভেবে নেন হয়তো ঘুম কম হয়েছে বলে সমস্যা হচ্ছে। সাধারণত সঠিক ডায়েট, শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম স্বাস্থ্য ভালো রাখার চাবিকাঠি, এমনটা সবার ধারণা। ঘুম অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।

তবে ঘুম সঠিকভাবে হওয়াটা জরুরি। আপনি কতটা ঘুমোচ্ছেন, কীভাবে ঘুমোচ্ছেন, কেমন বিছানায় ঘুমোচ্ছেন সেটা অবশ্যই স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। ভাবছেন, এগুলো কীভাবে মেনে চলবেন? আপনার শোয়ার ধরণই আপনাকে মুক্তি দেবে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে। চলুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে ঘুমালে আপনার কোন সমস্যা দূর হবে-

চিত হয়ে ঘুমানো
চিত হয়ে ঘুমানোর কতগুলো ভাগ আছে। অনেকে একদম সোজা হয়ে হাত দুটো দু’পাশে রেখে ঘুমান। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই পজিশনে ৮ শতাংশ মানুষ ঘুমান। এইভাবে যারা ঘুমান তারা শান্ত স্বভাবের হন। অনেকে চিত হয়ে স্টারফিশের মতো ঘুমান। এই পজিশনে হাত দুটো থাকে মাথার পাশে। ৫ শতাংশ মানুষ এইভাবে ঘুমান।

চিত হয়ে পিঠের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানোর কিছু বেনিফিট আছে। এভাবে ঘুমালে হাঁটুর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হাত-পা ছড়িয়ে চিত হয়ে ঘুমালে জয়েন্টে চাপ পড়ে না।

উপুড় হয়ে ঘুমানো
সাত শতাংশ মানুষ পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমান। পেটের ওপর ভর দিয়ে হাত দুটো বালিশের ওপর রাখুন। মুখ যেকোনো একদিকে থাকবে। উপুড় হয়ে বা পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানোরও কিছু ভালো দিক আছে।

এভাবে ঘুমালে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ পড়ে না। ফলে ব্যাক পেন এবং ঘাড়ের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এইভাবে ঘুমোলে মস্তিষ্ক হয় বহির্গামী। এই ধরনের পজিশনে যারা ঘুমান তারা সমালোচক হন।

ফেটাল পজি’শন
পাশ ফিরে হাঁটু ভাঁজ করে শুতে পছন্দ করেন অনেকে। ৪১ শতাংশ মানুষ এভাবে ঘুমান। তবে খুব বেঁকে শুলে শ্বাস নিতে অসুবিধে হতে পারে। আর্থ্রাইটিস বা পিঠের ব্যথায় যারা ভোগেন, তারা এই পজিশনে শুলে ব্যথা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি দুই পায়ের মাঝে বালিশ দিয়ে শুতে পারেন। ঘুম মানুষকে শান্তি দেয়, মন ভালো রাখে। তবে সঠিক ভঙ্গিতে না শুলে বিপদ হতে পারে। তাই শুতে হবে নিয়ম মেনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.