জীবাণু থেকে সুরক্ষায় মাস্ক

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ একটি আতঙ্কের নাম। মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা খুবই জরুরি। মহামারীর কারণে প্রতিদিন মৃত্যুবরণ করছে হাজার হাজার মানুষ। করোনাভাইরাস ঠেকাতে এ সময়ে নিজেকে সুস্থ রাখতে হবে। তাই সবচেয়ে বেশি যেই বিষয়টির প্রয়োজন তা হচ্ছে- সচেতনতা। আর সচেতন থাকার প্রথম ধাপ হচ্ছে মাস্ক পরা।

তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে এবং ভাইরাস যাতে আমাদের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য মাস্কের ব্যবহার অত্যাবশ্যক। আপনি যখন লোকসমাগমপূর্ণ জায়গায় আছেন কিংবা রাস্তায় বা যাতায়াত পথে আছেন তখন অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

মাস্ক পরার ক্ষেত্রে মানতে হয় কিছু সতর্কতা এবং মাস্ক বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হয় কিছু বিষয়। আমাদের মাঝে অনেকেই সার্জিক্যাল মাস্ক আবার কেউ এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক পরে থাকেন। অনেকে কাপড়ের তৈরি মাস্কও পরে থাকেন।

মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনি যদি একই মাস্ক বারবার ব্যবহার করতে চান তাহলে কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তবে এ ধরনের মাস্ক কেবল ধুলাবালি থেকে আপনাকে সুরক্ষা দিতে পারবে। তিন স্তরের কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এর পাশাপাশি অনেকে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে থাকেন। সার্জিক্যাল  মাস্ক পরার ক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, মাস্কের কোন পাশটা আপনি ব্যবহার করছেন।

সাধারণত এ ধরনের মাস্কগুলোর এক পাশে নীল আর এক পাশে সাদা অংশ দেখা যায়। সার্জিক্যাল মাস্কের ক্ষেত্রে নীল অংশটি ওয়াটার প্রুফ এবং সাদা অংশটি ফিলটার। যা আপনাকে বাইরের জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয়।

আপনি যদি সুস্থ ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে বাইরের ধুলাবালি থেকে নিজেকে বাঁচাতে সাদা অংশটি বাইরের দিকে আর নীল অংশটি ভেতরের দিকে পরুন। আর আপনার যদি সর্দি, কাশি ও জ্বর কিংবা অন্য কোনো সমস্যা থাকে তাহলে নীল অংশটি বাইরে এবং সাদা অংশটি ভেতরে পরুন। যার ফলে আপনার থেকে ক্ষতিকর কোনো কিছু বাইরে যেতে পারবে না। ফলে অন্য কোনো ব্যক্তি আক্রান্তের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

সার্জিক্যাল মাস্ক একদিনের বেশি কখনই পরা উচিত নয়। যদিও একটি মাস্ক ৩ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে ফেলে দিতে হয় তবে বারবার মাস্ক পরিবর্তন করা সম্ভব না বিধায় একটি সার্জিক্যাল মাস্ক একদিন কেবল ব্যবহার করা উচিত। সার্জিক্যাল মাস্কের পাশাপাশি অনেকে এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক ব্যবহার করে থাকেন। মূলত এ মাস্কগুলো যারা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তাদের জন্য তৈরি।

অনেকে মাস্ক না পরেই বাইরে বের হচ্ছেন। যার ফলে নিজের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে আশপাশের মানুষেরও। তাই বাইরে থাকা অবস্থায় সব সময় মাস্ক পরিধান করতে হবে। মাস্কে বারবার হাত দেয়া যাবে না। আর যখন মাস্ক খুলতে যাবেন তখন কানের পেছনে থাকা সুতা ধরে খুলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। আর হাত সাবান পানি অথবা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

নিজেদেরকে সুস্থ রাখতে হলে এবং করোনাভাইরাসের মতো মহামারীর সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ থাকার জন্য আমাদেরকে এসব নিয়ম মেনে চলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *