জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে দ্বিধা। কেন?

উপযুক্ত সঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অনেকেই এক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে থাকেন। দেখা যায় ছোট-বড় যে কোন বিষয়ে অনেকেই নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেন না অথবা দীর্ঘ সময় নেন, আবার অনেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহনে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকেন যা সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়।

এমন দ্বিধা কাটিয়ে না উঠার জন্য ব্যক্তি সর্বদা সম্মুখীন হন জটিল পরিস্থিতির। তেমনি জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কাজ করে সিদ্ধান্তহীনতা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই যে দ্বিধাগুলোতে ভোগেনঃ

– নিখুঁত সঙ্গী খোঁজার প্রবণতা।

– নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা অর্থাৎ হীনম্মন্যতায় ভোগা।

– নিজের পছন্দের প্রতি অনাস্থা তাই সর্বক্ষেত্রে অন্যের সিদ্ধান্তে নির্ভরশীল থাকা।

– অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ে সঙ্গী খুঁজার প্রবনতা।

– অন্যের ত্রুটি ধরার মানসিকতা বা খুঁতখুঁতে স্বভাব।

– বিচ্ছেদের ভয়।

সঙ্গী বাছাইয়ে দ্বিধা দূর করবেন যেভাবে –

আপনি কি বিয়ের বিষয়ে সত্যি সিরিয়াসঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কি বিয়ের জন্য সত্যি সিরিয়াস? উত্তর যদি হয় হ্যাঁ, এবার খেয়াল করুন আপনি কি বিয়ের জন্য পুরোপুরি ভাবে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক দিক থেকে প্রস্তুত। আপনি এ বিষয়গুলো নিয়ে যদি প্রস্তুত থাকেন তাহলে আপনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

জানুন কেন বিয়ে করছেনঃ

বিয়ের বয়স হয়েছে, জৈবিক চাহিদার জন্য বিয়ে, একাকীত্ব দূর করতে, বৃদ্ধ বাবা মায়ের সেবা করতে বা সামাজিক নিয়ম এসব এক পক্ষ চিন্তা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিবেন না। জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের পূর্বে সচেতন হন যে আপনি কেন বিয়ে করছেন। বিয়ে মানে দুজন ব্যক্তির জীবন অন্তর্নিহিত হবে একই সুতোয়। তাই কি কি পরিস্থিতি সামনে আসবে আর কিভাবে দুজন মিলে জীবন পরিচালনা করবেন সে দিকগুলো ভেবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন।

উপদেশ গ্রহন করুন তবে বুঝেশুনেঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে আপনি কারো উপদেশ গ্রহন করতেই পারেন তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন যেমনঃ সে যেন আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হন। উপদেশ নেয়ার সময় আপনার পছন্দ-অপছন্দ, মতামত বা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন, বেশী মানুষের উপদেশ গ্রহন করতে যাবেন না।

আবেগি মনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিজেকে বা অন্যকে কষ্ট দিবেন নাঃ

মানুষের মন সহজাতভাবেই আবেগি কিন্তু জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। কেবল রুপ, গুণ অথবা ঐশ্বর্য এসব দেখে যেমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন করা উচিত নয় তেমনি প্রতিষ্ঠিত নয় অথবা আপনার সাথে বা আপনার পরিবারের সাথে মানানসই নয় এরকম ব্যক্তি কেউ জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন না করাই ভালো।

নিখুঁত নয়, সঙ্গী হবে উপযোগীঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিখুঁত ব্যক্তি খুঁজতে থাকি আমরা, আর প্রধান ভুলটা এখানে কেননা পৃথিবীতে নিখুঁত কোন মানুষ হয়না।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়ো নয়ঃ

তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গেলে, অনেক যৌক্তিক চিন্তা মাথা থেকে বের হয়ে এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ভুল হলে অনেক সময় আফসোস করতে হয়। তাই জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হোক ভেবে চিন্তে ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে।

বিচ্ছেদের ভয় কে জয় করুনঃ

আপনার সিদ্ধান্ত যদি আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সাথে মানানসই হয় তাহলেই আপনি বিচ্ছেদের ভয় কে জয় করতে পারবেন। তাই এমন জীবনসঙ্গী বাছাই করুন যেন সারাজীবন মানানসই হয়।

জীবনের পথে দুজনের ভাবনা খাপে খাপে মিলে না গেলে দাম্পত্যে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়াটা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সুখী দাম্পত্যের জন্য অর্থ-বিত্ত বা অন্য কিছুর চাইতে পছন্দের একটি মানুষ সবচাইতে বেশি জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!